“রাজ্যের অভিযোগ মানছে না রাজ্যই”-নিয়োগ দুর্নীতির মামলা নিয়ে তাজ্জব হাইকোর্ট

গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-এর স্কুলগুলিতে নিয়োগ দুর্নীতির একটি মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্তের সওয়ালে তাজ্জব কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তর ৩১৩ জনের বিরুদ্ধে বেআইনি নিয়োগের অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের করলেও, এজি বলেন, “অভিযোগ করলেই কেউ অভিযুক্ত হয়ে যান না।” এই বক্তব্যে তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। আগামী ৭ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শুনানিতে কী ঘটল?

জিটিএ-র স্কুলগুলিতে ৩১৩ জনকে বেআইনিভাবে নিয়োগের অভিযোগে স্কুল শিক্ষা দপ্তর তদন্ত করে এফআইআর দায়ের করেছিল। এই মামলা বর্তমানে বিচারপতি বসুর একক বেঞ্চে বিচারাধীন। শুক্রবার শুনানিতে এজি কিশোর দত্ত বলেন, “এফআইআর-এ নাম থাকলেই কি তাঁকে অভিযুক্ত বলতে হবে?” এর জবাবে বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “আপনার স্কুল এডুকেশন দপ্তর নিজেই তদন্ত কমিটি গঠন করে এফআইআর করেছে। তারপরও রাজ্য বিশ্বাস করছে না? তদন্তের নামে প্রতিবার কুমীরের ছানা দেখিয়ে বিভ্রান্ত করছেন।”

কিশোর দত্ত দাবি করেন, এফআইআর-এ নাম উল্লেখের ধরন দেখতে হবে এবং এই ৩১৩ জনের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ নেই। তবে বিচারপতি এই যুক্তি মানতে নারাজ। তিনি রাজ্যকে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং প্রশ্ন তোলেন, “অভিযুক্তদের এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি কেন? তদন্তকারী সংস্থা এত নড়বড়ে কেন?”

বিচারপতির ক্ষোভ

বিচারপতি বসু বলেন, “অভিযুক্তেরা কোন ধরনের ভিআইপি, যে তাঁদের কিছু জিজ্ঞেস করা যায় না?” তিনি রাজ্যের তদন্তে গুরুত্ব না দেওয়ার প্রবণতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, “রাজ্য সিরিয়াস তদন্ত করতে চাইছে না।” এমনকি তদন্তকারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। আদালত বান্ধব আইনজীবী কৌশিক গুপ্ত জানান, পুলিশ এফআইআর-এর ভিত্তিতে কাজ করছে এবং এবার অভিযুক্তদের ৪১ ধারায় নোটিস পাঠানো উচিত। তবে গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রেই বিভাগীয় তদন্ত সম্ভব বলে মত তাঁর।

নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা

বিচারপতি বসু এই মামলার প্রেক্ষিতে জিটিএ-তে আর কোনো নিয়োগ না করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে। আগামী শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতি দেখতে চান তিনি।

মামলার পটভূমি

জিটিএ-র স্কুলগুলিতে ৩১৩ জনকে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তর তদন্ত শুরু করে। এই নিয়োগগুলি বেআইনি বলে দাবি করে এফআইআর দায়ের করা হয়। তবে তদন্তে অগ্রগতি না থাকায় এবং রাজ্যের আইনজীবীর এই অবস্থানে মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে।

আগামীর দিকে

আগামী ৭ এপ্রিল শুনানিতে তদন্তের রিপোর্ট পেশ না হলে রাজ্যের ভূমিকা আরও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। বিচারপতি বসুর কড়া মনোভাব থেকে স্পষ্ট, তিনি এই দুর্নীতির তদন্তে কোনো শৈথিল্য মেনে নেবেন না। এই মামলা কীভাবে এগোয়, সেদিকে নজর রয়েছে সকলের।