জমি দখলে বাধা দিতেই বৃদ্ধাকে মার, মালদায় TMC-র দুই গোষ্ঠীর সংর্ঘষ, জখম ৩

মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার মোবারকপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনায় রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় তৃণমূলের কিষাণ ক্ষেত মজদুর সেলের নেত্রী সালমি খাতুনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

বিগত কয়েক মাসে মালদা বারবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে। এবারও জমি দখলের ঘটনায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বও দলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের বিষয়টি স্বীকার করেছে।

ঘটনার বিবরণ

অভিযোগ, তৃণমূল কর্মী রহমান আলির জমি ও ফসল দখলের চেষ্টা করেন দলের নেত্রী সালমি খাতুন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নেতা সালাম শেখ ও একদল তৃণমূল কর্মী। জমির ফসল কাটতে শুরু করা হয় বলে জানা গেছে। এ সময় রহমান আলির মা একা প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে রহমানের বাবা রহিম আলি ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাঁকেও ব্যাপকভাবে মারধর করা হয়। আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এই ঘটনায় তিনজন গুরুতর আহত হন—রহিম আলি, তাঁর স্ত্রী এবং দাদা। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

পক্ষগুলোর বক্তব্য

স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে, সংঘর্ষে জড়িত দুই পক্ষই তাদের দলের সঙ্গে যুক্ত। এদিকে, বিজেপির স্থানীয় নেতারা এই ঘটনায় তৃণমূলের সমালোচনায় সরব হয়েছেন। তাঁরা বলছেন, “তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন আর গোপন নেই। এই ঘটনা তার প্রমাণ।”

নেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

যে নেত্রী সালমি খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।

পরিস্থিতি

ঘটনার পর মোবারকপুরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টহল জোরদার করেছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে, তবে তাঁদের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

এই ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের উপর প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।