ছত্তিশগড়ে সেনা-মাওবাদী তুমুল সংঘর্ষ, এক সৈন্য শহীদ ও ৩০ মাওবাদী নিহত

ছত্তিশগড় রাজ্যে বৃহস্পতিবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মাওবাদী বিদ্রোহীদের তুমুল সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন মাওবাদী এবং আধা-সামরিক বাহিনীর একজন সৈন্য নিহত হয়েছেন। রাজ্যের পৃথক দুটি স্থানে সংঘটিত এই সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনী বেশ কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে বিজাপুর জেলার জঙ্গলে এবং রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের একটি জঙ্গল এলাকায় এই সংঘর্ষ শুরু হয়। বাস্তার পুলিশের মহাপরিদর্শক সুন্দররাজ পত্তিলিঙ্গাম ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, বিজাপুরে চলা দিনভর সংঘর্ষে ২৬ জন মাওবাদী গেরিলা নিহত হয়েছেন এবং একজন সৈন্য শহিদ হয়েছেন। এছাড়া, দক্ষিণ ছত্তিশগড়ের আরেকটি পৃথক সংঘর্ষে চারজন মাওবাদী প্রাণ হারিয়েছেন।

সংঘর্ষের পর তল্লাশি

সংঘর্ষস্থলে চালানো তল্লাশি অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী বিপুল পরিমাণে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘নকশাল মুক্ত ভারত’ অভিযানের একটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, “নরেন্দ্র মোদি সরকার নকশালীদের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে চলেছে এবং যারা আত্মসমর্পণ করছে না, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করছে।”

মাওবাদী বিদ্রোহের ইতিহাস

মাওবাদী বিদ্রোহীরা, যারা নকশাল নামেও পরিচিত, ১৯৬৭ সালে চীনা বিপ্লবী নেতা মাও সেতুঙের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করেন। তারা খনিজ সমৃদ্ধ ছত্তিশগড়ের প্রান্তিক আদিবাসীদের জন্য জমি, চাকরি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে দশকের পর দশক ধরে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে। এই বিদ্রোহে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

সরকারের কঠোর অবস্থান

গত বছর নিরাপত্তা বাহিনী ছত্তিশগড়ে ২১৯ জন মাওবাদীকে নিহত করেছে, যা ২০২৩ সালের ২২ এবং ২০২২ সালের ৩০ জনের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া, প্রায় এক হাজার সন্দেহভাজন নকশালপন্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৮৩৭ জন আত্মসমর্পণ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গত সেপ্টেম্বরে মাওবাদীদের ‘আত্মসমর্পণ’ বা ‘সর্বাত্মক হামলার’ মুখোমুখি হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, বিজেপি সরকার ২০২৬ সালের প্রথম দিকে এই বিদ্রোহ পুরোপুরি দমন করতে চায়।

চলমান অভিযান

বর্তমানে বিজাপুর ও দক্ষিণ ছত্তিশগড়ের জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি অভিযান চলছে। পুলিশের আশঙ্কা, মাওবাদীদের আরও কিছু সদস্য আহত বা লুকিয়ে থাকতে পারে। এই সংঘর্ষ সরকারের কঠোর নীতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ক্রমবর্ধমান সাফল্যের ইঙ্গিত দেয়।

ছত্তিশগড়ের এই ঘটনা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য মাওবাদী বিদ্রোহের চ্যালেঞ্জকে আরও একবার সামনে এনেছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৬ সালের মধ্যে এই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান করা, যা আগামী দিনে আরও তীব্র অভিযানের ইঙ্গিত দেয়।

সূত্র: এএফপি