“একদা দুর্নীতির সঙ্গী জামাই হঠাত্‍ হয়ে গেলেন রাজসাক্ষী”-যেভাবে ‘অসুস্থ’ পার্থ চ্যাটার্জির বিপদ বাড়ল

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জন্য দুঃসময় যেন কাটছেই না। জেলে থাকাকালীন তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে, এবং এর মধ্যেই তাঁর জামাই কল্যাণময় ভট্টাচার্য এই মামলায় রাজসাক্ষী হয়ে গিয়েছেন। ফলে শ্বশুরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত কল্যাণ, যিনি একসময় পার্থর সঙ্গে অভিযুক্তের তালিকায় ছিলেন। এদিকে, পার্থর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রেসিডেন্সি জেল কর্তৃপক্ষ এসএসকেএম হাসপাতালকে মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছে।

জামাইয়ের রাজসাক্ষী হওয়া

ইডি-র বিশেষ আদালতে গোপন জবানবন্দি দিয়ে কল্যাণময় ভট্টাচার্য রাজসাক্ষী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্তের তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়েছে। ইডি-র চার্জশিটে বলা হয়েছে, কল্যাণ ছিলেন পার্থর দুর্নীতির টাকার হিসাবরক্ষক। অযোগ্য প্রার্থীদের থেকে আসা টাকা তিনি সামলাতেন এবং ভুয়ো সংস্থা তৈরি করে তা পরিচালনা করতেন। পার্থর স্ত্রী বাবলি চট্টোপাধ্যায়ের নামে গঠিত ‘বাবলি চ্যাটার্জি মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর ট্রাস্টি ও চেয়ারম্যান ছিলেন কল্যাণ। তিনি দাবি করেছিলেন, এই ট্রাস্টের জন্য একবার ১ কোটি ১৭ লক্ষ ৭৫ হাজার ৯১০ টাকা ডোনেশন সংগ্রহ হয়েছিল, যা একাধিক ব্যক্তি চেকের মাধ্যমে দিয়েছিলেন।

ইডি-র তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পার্থ যে কোম্পানি খুলেছিলেন, তার ডিরেক্টর পদে ২০১৯ সাল থেকে ছিলেন কল্যাণ। এই কোম্পানির মাধ্যমেও দুর্নীতির টাকা লেনদেন হতো বলে অভিযোগ। কিন্তু রাজসাক্ষী হওয়ার সিদ্ধান্তের পর কল্যাণ এখন শ্বশুরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন, যা পার্থর আইনি লড়াইকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

পার্থর শারীরিক অবস্থা

প্রেসিডেন্সি জেল সূত্রে জানা গেছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। তাঁর পা ফুলে গেছে এবং সাহায্য ছাড়া দাঁড়াতে পারছেন না। কী কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে, তা জানতে জেল কর্তৃপক্ষ এসএসকেএম হাসপাতালকে মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের জন্য চিঠি দিয়েছে। এর আগে, পার্থ বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। জেলে থাকাকালীন তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

মামলার পটভূমি

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় ২০২২ সালে গ্রেপ্তার হন। ইডি-র তদন্তে উঠে আসে, তিনি এই দুর্নীতির অন্যতম মূল কাণ্ডারি ছিলেন। তাঁর সঙ্গে জড়িত ছিলেন কল্যাণময় ভট্টাচার্যসহ আরও অনেকে। কিন্তু কল্যাণের রাজসাক্ষী হওয়ার সিদ্ধান্ত মামলায় নতুন মোড় এনেছে। তাঁর জবানবন্দি পার্থর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ

পার্থর শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং জামাইয়ের রাজসাক্ষী হওয়ার ঘটনা তাঁর পরিবার ও রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তুলেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন নেতা হিসেবে পার্থর এই দুর্দশা দলের জন্যও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর আইনি লড়াই এখন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্ট এবং কল্যাণের সাক্ষ্য মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

পার্থর স্বাস্থ্য ও আইনি সংকটের মধ্যে এই মামলা এখনও শেষ পরিণতির অপেক্ষায়। তবে জামাই-শ্বশুরের এই সম্পর্কের নতুন মোড় সবার দৃষ্টি কেড়েছে।