BigNews: লন্ডনে হাজার হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন, বন্ধ হয়ে গেলো বিমানবন্দরও

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিকটবর্তী একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে আগুন লাগার ঘটনায় এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়, ফলে শুক্রবার (২১ মার্চ) সারাদিনের জন্য বিমানবন্দরটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় হাজার হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং আশপাশের এলাকা থেকে অনেককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

আগুনের কারণে বিদ্যুৎ সংকট

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম লন্ডনের হেইসে অবস্থিত একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে বৃহস্পতিবার রাতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এই সাবস্টেশন থেকেই হিথ্রো বিমানবন্দরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। আগুনের ফলে বিমানবন্দরে “উল্লেখযোগ্য বিদ্যুৎ বিভ্রাট” দেখা দেয়, যা স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে কর্তৃপক্ষ শুক্রবার সারাদিন বিমানবন্দর বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।

হিথ্রো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আমাদের যাত্রী ও সহকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা ২১ মার্চ রাত ৯:৫৯ পর্যন্ত হিথ্রো বিমানবন্দর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তারা যেন বিমানবন্দরে না আসেন এবং আরও তথ্যের জন্য নিজ নিজ বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই অসুবিধার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।”

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

বিমানবন্দরের এক মুখপাত্র জানান, “অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন, তবে বিদ্যুৎ কখন পুরোপুরি পুনরায় চালু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আমরা পরিস্থিতি সমাধানের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।” তিনি আরও বলেন, “বিমানবন্দর পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের কোনও অবস্থাতেই এখানে না আসার অনুরোধ করা হচ্ছে। আগামী কয়েকদিন উল্লেখযোগ্য বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে।”

স্থানীয় প্রভাব

অগ্নিকাণ্ডের জেরে হেইস এলাকায় হাজার হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড (এলএফবি) জানিয়েছে, আগুন নেভাতে দশটি দমকল ইঞ্জিন এবং প্রায় ৭০ জন দমকলকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। আশপাশের বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এলএফবি-র এক কর্মকর্তা জানান, “এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ঘটনা হতে পারে। আমরা স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছি।”

হিথ্রোর গুরুত্ব

যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর হিথ্রো প্রতিদিন প্রায় ১৩০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করে। গত বছর এই বিমানবন্দর দিয়ে রেকর্ড ৮ কোটি ৩৯ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেছেন। এই বন্ধের ফলে শুধু যুক্তরাজ্য নয়, বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, বন্ধের কারণে কমপক্ষে ১৩৫১টি ফ্লাইট বাতিল বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যাত্রীদের আপডেট দেওয়া হবে। এদিকে, আগুনের কারণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। তদন্তকারীরা ঘটনার মূল কারণ খুঁজে বের করতে কাজ শুরু করেছে। এই ঘটনা হিথ্রোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্রের অবকাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় যাত্রীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়েছে। অনেকে তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল বা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা হবে।

সংশোধন: প্রকাশিত খবরে ‘যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী লন্ডন’ বলা হয়েছে, যা ভুল। সঠিক তথ্য হলো—লন্ডন যুক্তরাজ্যের রাজধানী। এই ভুলের জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।