ভক্তির সন্ধে বদলে গেল বিভীষিকায়! নারায়ণ পুজোর সন্ধ্যারতির সময় তুবড়ি ফেটে আহত হলেন ১৩

দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ – ভক্তিময় পরিবেশে নারায়ণ পুজোর সন্ধ্যারতির সময় হঠাৎই বিভীষিকায় রূপ নিল সাগরের এই শান্ত প্রান্তর। তুবড়ি ফাটানোর সময় ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুজোর সময় আকাশে আলোর খেলা দেখাতে গিয়েই ঘটে এই দুর্ঘটনা। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, এবং প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।

বারুইপুরে রাজনৈতিক সংঘাত, বিধানসভায় উত্তাপ

এদিকে, রামনবমী উপলক্ষে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে বারুইপুরে। বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে সংঘাতের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বুধবার বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর গাড়িকে কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ করে তৃণমূল কর্মীরা। এদিন বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের লক্ষ্য করে লঙ্কার গুঁড়ো, ইট ও পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এদিন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “আমাদের ফাঁদে ফেলা হয়েছে। বিকেল ১টা থেকে ৩টার মধ্যে কোনো কারণ ছাড়াই তৃণমূলকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তোলাবাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছেন। তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট – ২৬ তারিখের আগে পথের কাঁটা সরিয়ে ফেলা।”

বিধানসভায় অচলাবস্থা, বিজেপির তুমুল বিক্ষোভ

বারুইপুরের এই ঘটনার রেশ টেনে বৃহস্পতিবার বিধানসভাতেও দেখা দিল উত্তপ্ত পরিস্থিতি। বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধানসভায় তুমুল বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি। অধিবেশন শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই বিজেপি বিধায়করা চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিধানসভার ভিতরে-বাইরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে, এবং রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

এই ঘটনাগুলি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। রামনবমীকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে টানাপোড়েন এবং বারুইপুরের সংঘাত রাজ্যের নির্বাচনী আবহকে আরও জটিল করে তুলছে। প্রশাসন ও পুলিশের তরফ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা এখনও থামেনি। আগামী দিনগুলিতে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা নিয়ে চোখ রাখছে রাজ্যবাসী।