‘৭ বার জিতে এসেছি…’ সংসদে BJP-র শাহ VS TMC-র সাকেত-এর তুমুল কথার লড়াই

বুধবার রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সাকেত গোখলের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধের সাক্ষী থাকল সংসদ। সিবিআই, বিএসএফের এলাকা বৃদ্ধি এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে তৃণমূলের তরফে তীব্র সমালোচনা করেন সাকেত। এর পাল্টা জবাবে অমিত শাহ বলেন, “আমি সাতবার জয়ী হয়ে এসেছি। কারোর দয়ায় সংসদে আসিনি। আমি কাউকে ভয় পাই না।”
সাকেতের অভিযোগ: কেন্দ্র রাজ্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না
রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাকেত গোখলে অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারের সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব না দিয়ে তাদের কার্যক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করছে। তিনি সিবিআইয়ের ভূমিকা এবং বিএসএফের এলাকা বৃদ্ধির উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার বিষয়ে অহেতুক নাক গলাচ্ছে। এটি সংবিধানের ফেডারেল কাঠামোর ওপর আঘাত।” তিনি আরও দাবি করেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ রাজ্যের স্বায়ত্তশাসনকে খর্ব করছে।
শাহের বিরোধিতা, সাকেতের খোঁচা
সাকেতের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি তৃণমূলের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। এ সময় সাকেত পাল্টা খোঁচা দিয়ে বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভয় পেয়ে গিয়েছেন।” এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ শাহ তৎক্ষণাৎ জবাব দেন, “আমি সাতবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে এসেছি। কারোর দয়ায় এখানে আসিনি। আমি কাউকে ভয় পাই না।” তিনি আরও বলেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের সীমার মধ্যে থেকেই কাজ করছে এবং রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে সিবিআই ও বিএসএফ
সাকেত গোখলে তাঁর বক্তব্যে সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলোকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।” তিনি বিএসএফের এলাকা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন যে, এটি রাজ্যের অধিকারে হস্তক্ষেপের আরেকটি উদাহরণ। তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, কেন্দ্রীয় সরকার বিজেপি-শাসিত নয় এমন রাজ্যগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
এই বাকযুদ্ধের সময় রাজ্যসভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তৃণমূল সাংসদেরা সাকেতের সমর্থনে সোচ্চার হয়ে ওঠেন, অন্যদিকে বিজেপি সাংসদরা শাহের পক্ষে দাঁড়ান। বিরোধী দলগুলোর একাংশও এই বিতর্কে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার পর তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে যে, সাকেতের বক্তব্য বাংলার মানুষের কণ্ঠকে সংসদে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতারা শাহের জবাবকে ‘দৃঢ় ও যথাযথ’ বলে সমর্থন জানিয়েছেন। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই বিতর্ক আগামী দিনে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও জোরালো করতে পারে।
রাজ্যসভার এই বিতর্ক কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আরেকটি প্রতিফলন। সামনের দিনে এই ইস্যুতে আরও আলোচনা ও বিতর্কের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।