রামনবমীতে ইডেনে KKR-এর ম্যাচ আদৌ হবে? নিরাপত্তা ইস্যুতে BCCI-র দ্বারস্থ হলো CAB

আগামী ৬ এপ্রিল ইডেন গার্ডেন্সে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) এবং লখনউ সুপার জায়ান্টসের (এলএসজি) মধ্যে আইপিএল ২০২৫-এর একটি ম্যাচ আয়োজনের কথা রয়েছে। কিন্তু ওই দিনই রামনবমী উপলক্ষে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও মিছিলের জন্য শহরে ব্যাপক ব্যস্ততা থাকায় ম্যাচটি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। রামনবমীর দিন কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে মিছিল ও অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে, এবং শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হবে। ফলে ইডেনে ম্যাচের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী দেওয়া পুলিশের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

সিএবি’র উদ্বেগ

ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (সিএবি) সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব নয়। তিনি বিসিসিআইকে এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “পুলিশের তরফে আমাদের জানানো হয়েছে যে তারা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে পারবে না। ৬৫ হাজার দর্শকের নিরাপত্তা পুলিশ ছাড়া পরিচালনা করা অসম্ভব।” স্নেহাশিস আরও উল্লেখ করেন, অতীতেও নিরাপত্তার কারণে কলকাতার একটি ম্যাচের সূচি পরিবর্তন করা হয়েছিল। এবারও একই পরিস্থিতি হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

সিএবি’র পক্ষ থেকে ম্যাচের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার কথা বিসিসিআইকে জানানো হলেও, বোর্ড এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। ফলে ৬ এপ্রিল ইডেনে এই ম্যাচটি হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। আইপিএলের সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলির চাপে ফাঁকা মাঠে ম্যাচ আয়োজনের কোনও সম্ভাবনা নেই। কারণ, এতে টিকিট বিক্রি থেকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে এবং আইপিএলের উৎসবমুখর আবহও নষ্ট হবে। অতীতে ইডেনে ফাঁকা মাঠে আন্তর্জাতিক ম্যাচ হলেও, আইপিএলের মতো জনপ্রিয় টুর্নামেন্টে দর্শকশূন্য ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

পুলিশের বক্তব্য

কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, রামনবমী উপলক্ষে শহরজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এই পরিস্থিতিতে ইডেন গার্ডেন্সে ম্যাচের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা সম্ভব হবে না। পুলিশের এই অবস্থানের কারণে ম্যাচটি নিয়ে সংশয় আরও গভীর হয়েছে।

কী হবে পরবর্তী পদক্ষেপ?

এখন সবার নজর বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তের দিকে। বোর্ড কি ম্যাচের সূচি পরিবর্তন করবে, নাকি ইডেনেই এটি আয়োজনের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজবে? তবে সিএবি’র নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে ম্যাচের তারিখ বা স্থান বদলের সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—ইডেনে কি এবারও সময়মতো কেকেআরের খেলা দেখা যাবে? উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।