২৮৬ দিন পর মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফিরলেন, ৯ মাস কী খেয়ে কাটালেন সুনীতারা?

২৮৬ দিন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) কাটানোর পর অবশেষে পৃথিবীতে ফিরেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস এবং তাঁর সঙ্গী বুচ উইলমোর। বুধবার ভারতীয় সময় ভোর ৩টে ২৭ মিনিটে ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সের মহাকাশযান ফ্লোরিডার সমুদ্রে সফলভাবে অবতরণ করে। নাসার চিকিৎসকেরা তাঁদের স্বাস্থ্য ও খাদ্যাভাসের উপর নজর রাখছেন। তবে এত দীর্ঘ সময় মহাকাশে কাটিয়ে সুনীতা ও বুচ কী খেয়েছেন, তা নিয়ে সকলের মনে কৌতূহল জাগছে।

মহাকাশে খাদ্যতালিকা
স্টারলাইন মিশনের সঙ্গে যুক্ত একজন বিশেষজ্ঞ সম্প্রতি দ্য পোস্ট-এর সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন, মহাকাশে থাকলেও সুনীতা ও বুচের খাবারের তালিকা ছিল বৈচিত্র্যময়। নিরামিষ ও আমিষ—দুই ধরনের খাবারই তাঁরা খেয়েছেন। তাঁদের খাদ্যতালিকায় ছিল গুঁড়ো দুধের সঙ্গে সিরিয়াল, পিৎজ্জা, চিংড়ির ককটেল, রোস্ট চিকেন এবং টুনা মাছ। এই আমিষ ও ডিমের খাবারগুলো পৃথিবীতে রান্না করে প্যাকেটজাত করা হয়েছিল। মহাকাশে গিয়ে সেগুলো শুধু গরম করে খাওয়া হতো।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে প্রতিদিন প্রত্যেক মহাকাশচারীর জন্য প্রায় ১.৭২ কিলোগ্রাম খাবার সরবরাহ করা হয়। এই খাবারগুলো বেশিরভাগই হিমায়িত, শুকনো বা প্যাকেটজাত আকারে পাঠানো হয়। স্টেশনে থাকা ফুড ওয়ার্মারের সাহায্যে এগুলো পুনরায় গরম করে খাওয়া হয়। জরুরি পরিস্থিতির জন্য খাবার মজুত রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে।

টেকসই প্রযুক্তি
মহাকাশ স্টেশনের একটি আশ্চর্যজনক বৈশিষ্ট্য হলো এটি মহাকাশচারীদের ঘাম ও মূত্রকে পানযোগ্য মিষ্টি জলে রূপান্তরিত করে। এর ফলে বর্জ্য উৎপাদন খুবই কম হয়, যা দীর্ঘ মিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পৃথিবীতে ফিরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা
নয় মাস মহাকাশে কাটানোর পর সুনীতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোরের শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হয়েছে, যা দীর্ঘ মহাকাশযাত্রার স্বাভাবিক ফল। তবে তাঁরা সুস্থ আছেন। স্পেসএক্সের ক্যাপসুল থেকে হাসিমুখে বেরিয়ে আসেন দু’জনে। তবে এখনই বাড়ি ফেরা হচ্ছে না তাঁদের। নাসার বিশেষ বিশ্রামাগারে কিছুদিন কাটাতে হবে। তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে। সেখানকার ক্রু-কোয়ার্টারই এখন তাঁদের অস্থায়ী ঠিকানা।

একটি সফল মিশন
সুনীতা উইলিয়ামসের এই মিশন মানবদেহের সহনশীলতা এবং মহাকাশযানের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর সফল প্রত্যাবর্তন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই মহাকাশচারীর কৃতিত্বে আরেকটি অধ্যায় যোগ করল। তাঁদের এই যাত্রা ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানের পথ আরও প্রশস্ত করবে।