নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বিপদ বাড়লো পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়ের, বিস্ফোরক তথ্য জানালেন জামাই কল্যাণময় ভট্টাচার্য

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নতুন মোড়! প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরও জোরালো হল দুর্নীতির অভিযোগ। শনিবার ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নিজের বয়ান রেকর্ড করলেন পার্থর জামাই কল্যাণময় ভট্টাচার্য। সেখানে তিনি একাধিক বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন, যা এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কোটি কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য প্রকাশ্যে
সূত্রের খবর, কল্যাণময় ভট্টাচার্য সদিচ্ছায় রাজসাক্ষী হিসেবে ইডির কাছে তাঁর বয়ান দিয়েছেন এবং কোটি কোটি টাকার লেনদেনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। ইডির চার্জশিট অনুযায়ী, পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী বাবলি চট্টোপাধ্যায়ের নামে যে বাবলি চট্টোপাধ্যায় ইন্টারন্যাশনাল স্কুল রয়েছে, সেখানেই বিশাল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছিল।
১৫ কোটি টাকা নগদ দিয়েছিলেন পার্থ!
ইডির চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে, স্কুলের জমি কেনা থেকে শুরু করে নির্মাণকাজ পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই বড় অঙ্কের নগদ টাকা ব্যবহার করা হয়েছিল। সূত্রের দাবি, পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিজেই এই স্কুলের জন্য ১৫ কোটি টাকা নগদ দিয়েছিলেন। সেই অর্থের একটি বড় অংশ সরাসরি কল্যাণময়ের হাত দিয়েই খরচ করা হয়েছিল।
রাজসাক্ষী হতে চান জামাই
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থর জামাই কল্যাণময় ভট্টাচার্য সম্প্রতি রাজসাক্ষী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। যেহেতু তিনি বাবলি চট্টোপাধ্যায় ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অন্যতম ডিরেক্টর, তাই দুর্নীতির তদন্তে তাঁর নামও উঠে আসে। তিনি সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে রাজসাক্ষী হওয়ার জন্য আবেদন করেন। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রাজসাক্ষী হলে তিনি কোনও বিশেষ সুবিধা পাবেন না।
পার্থর বিপদ আরও বাড়ল!
ইতিমধ্যেই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি রয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এবার জামাইয়ের সাক্ষ্যের ফলে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ আরও জোরদার হল। ইডি এবং সিবিআই এই নতুন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে নতুন কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকে নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।