SPORTS: “সবচেয়ে হতাশার”-অস্ট্রেলিয়ায় সবশেষ সফর নিয়ে যা বললেন বিরাট কোহলি

ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম কিংবদন্তি বিরাট কোহলি সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরের ব্যর্থতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। শনিবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু আয়োজিত ‘ইনোভেশন ল্যাব ইন্ডিয়ান স্পোর্টস সামিটে’ উপস্থিত হয়ে তিনি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে হতাশাজনক সময়ের কথা তুলে ধরেন। গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ায় পাঁচ টেস্টের সিরিজে কোহলির পারফরম্যান্স তার নিজের মানদণ্ডে ছিল নিম্নমুখী। প্রথম টেস্টে ১০০ রানের ইনিংস খেললেও পরের ম্যাচগুলোতে তিনি ব্যর্থতার জালে আটকে যান। সিরিজ শেষে তার সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ১৯০ রান, ব্যাটিং গড় ছিল ২৩.৭৫।

ইংল্যান্ড সফরের স্মৃতি

কোহলির ক্যারিয়ারে এর আগেও এমন হতাশাজনক সময় এসেছে। ২০১৪ সালে ইংল্যান্ড সফরে তিনি ৫ টেস্টের ১০ ইনিংসে মাত্র ১৩৪ রান করতে পেরেছিলেন, যার গড় ছিল মাত্র ১৩.৪০। ওই সফরের ব্যর্থতা তাকে দীর্ঘদিন পীড়া দিয়েছে। তবে ২০১৮ সালে ইংল্যান্ড সফরে তিনি তার ক্ষতিপূরণ করতে সক্ষম হন। পাঁচ টেস্টে ৫৯.৩০ গড়ে ৫৯৩ রান করেন, যার মধ্যে ছিল দুটি সেঞ্চুরি এবং তিনটি ফিফটি।

অস্ট্রেলিয়ায় কোহলির পারফরম্যান্স

অস্ট্রেলিয়ায় কোহলির পারফরম্যান্স এবারের মতো খারাপ কখনোই ছিল না। ২০১১ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে তিনি চার টেস্টে ৩০০ রান করেন, যার মধ্যে ছিল একটি সেঞ্চুরি এবং একটি ফিফটি। ২০১৪ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় অপ্রতিরোধ্য ছিলেন, চার টেস্টে চার সেঞ্চুরি করে ৬৯২ রান করেন, যার গড় ছিল ৮৬.৫০। ২০১৮ সালে তিনি চার টেস্টে একটি সেঞ্চুরি সহ ২৮২ রান করেন। কিন্তু গত সফরে তার পারফরম্যান্স ছিল সবচেয়ে নিম্নমানের।

কোহলির স্বীকারোক্তি

সামিটে কোহলি বলেন, “আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, ক্যারিয়ারের কোন সময় সবচেয়ে বেশি হতাশাজনক ছিল, তাহলে বলব গত অস্ট্রেলিয়া সফর। এটি এখনও আমার মনে তরতাজা। ২০১৪ সালের ইংল্যান্ড সফর আমাকে দীর্ঘদিন ভুগিয়েছে, কিন্তু এবারের অস্ট্রেলিয়া সফরকে সেভাবে দেখতে পারছি না। চার বছর পর অস্ট্রেলিয়া সফরে হয়তো নাও থাকতে পারি। জানি না।”

ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা

৩৬ বছর বয়সী কোহলি জানান, জীবনের প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই তার লক্ষ্য। তিনি বলেন, “২০১৪ সালের পর ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডে গিয়ে যা করেছি, সেটা করার সুযোগ ছিল। সেবারও হয়তো তেমনটা না-ও হতে পারত। আরেকটা ব্যর্থ সিরিজ হতে পারত। কিন্তু তেমন কিছু হয়নি।”

শেষ কথা

বিরাট কোহলির অস্ট্রেলিয়া সফরের ব্যর্থতা তার ক্যারিয়ারের একটি অধ্যায় মাত্র। তবে তার স্বীকারোক্তি থেকে বোঝা যায়, এই ব্যাটিং মেশিনও মানসিক চাপ এবং ব্যর্থতার মুখোমুখি হন। আগামী দিনে তিনি কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেন, তা ক্রিকেট বিশ্বের জন্য অপেক্ষার বিষয়। কোহলির মতো খেলোয়াড়রা শুধু রানই করেন না, তারা অনুপ্রেরণাও হয়ে থাকেন।

সূত্র: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, ইনোভেশন ল্যাব ইন্ডিয়ান স্পোর্টস সামিট