“সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপে ঘনিষ্ঠতা তার জেরে ব্ল্যাকমেল”- শিক্ষিকার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় থেকে শুরু হওয়া ঘনিষ্ঠতা, তারপর ব্ল্যাকমেলিংয়ের অভিযোগ—শেষ পর্যন্ত মানসিক চাপে ভারসাম্য হারিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন এক শিক্ষিকা। দক্ষিণ দিনাজপুরে এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ৩২ বছর বয়সি এই মহিলা পেশায় শিক্ষিকা ছিলেন এবং তাঁর নয় বছরের একটি সন্তান রয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ।

ব্যাংক ট্রান্সফার ও সন্দেহজনক আচরণ

জানা গিয়েছে, গত ১১ মার্চ ওই মহিলা স্থানীয় একটি ব্যাংকের শাখা থেকে একাধিকবার টাকা ট্রান্সফার করেছিলেন। ব্যাংকের এক কর্মী জানান, টাকা পাঠানোর সময় তিনি সন্দেহ প্রকাশ করলে মহিলা বলেছিলেন, “একটি পার্সেল আসবে, তারই টাকা পাঠাচ্ছি।” এরপর তিনি অন্য একটি শাখা থেকেও টাকা পাঠিয়েছিলেন বলে খবর। এই ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল হতে থাকে।

আত্মহত্যার ঘটনা

বুধবার বিকেলে মহিলাকে তাঁর ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। তড়িঘড়ি তাঁকে বালুরঘাট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় থেকে ব্ল্যাকমেলিং

সূত্রের খবর, মহিলার ফেসবুকে ভিনরাজ্যের এক তরুণের সঙ্গে পরিচয় হয়। এই পরিচয় ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়। কিন্তু এরপরই ওই তরুণ তাঁর ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্যের ভিত্তিতে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত তরুণ মহিলার কাছ থেকে টাকা দাবি করত এবং টাকা না দিলে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিত। এই অবিরাম মানসিক চাপে মহিলা ভেঙে পড়েন।

পরিবার ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া

মহিলার পরিবার জানিয়েছে, তিনি বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক অশান্তিতে ভুগছিলেন। এই ঘটনার পর তাঁরা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তের খোঁজে অভিযান চালাচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিলার মোবাইল ফোন ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে উদ্বেগ

এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার এবং ব্ল্যাকমেলিংয়ের মতো অপরাধ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একজন শিক্ষিকার জীবন এভাবে শেষ হয়ে যাওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও শোকের সঞ্চার হয়েছে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকে এখন সবার নজর।

এই ঘটনা সমাজে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার নিরাপদ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।