সরকার থেকে পেয়েছিলেন সেরার সম্মান, প্রতিবাদে আত্মঘাতী হলেন সেই কৃষক

মহারাষ্ট্রের বুলধানা জেলার দেওয়ালগাবরাজ তহসিলের শিবনি আরমাল গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় সরকার কর্তৃক সম্মানিত এক কৃষক বিষাক্ত ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ৪৩ বছর বয়সী কৃষক কৈলাস নাগরে বৃহস্পতিবার ভোরে তার জমিতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যান। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২০ সালে মহারাষ্ট্র সরকার তাকে ‘তরুণ কৃষক পুরস্কার’ দিয়ে সম্মানিত করেছিল। তবে এই ঘটনা এলাকায় গভীর শোক ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
মৃত কৃষকের পকেট থেকে উদ্ধার হওয়া একটি সুইসাইড নোটে তিনি তার আত্মহত্যার কারণ হিসেবে এলাকার কৃষকদের জলের তীব্র সংকটের কথা উল্লেখ করেছেন। নোটে তিনি জানিয়েছেন, গত মাসে তিনি শিবনি আরমাল পুকুরে জলের সমস্যা সমাধানের দাবিতে পাঁচ দিনের অনশন ধর্মঘট করেছিলেন। তিনি আরও দাবি করেছেন যে, জল সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তার দেহ যেন সরানো না হয়। এই ঘটনায় কৈলাস নাগরে তার বাবা, স্ত্রী এবং তিন সন্তানকে রেখে গেছেন।
জল সংকটের জন্য লড়াই
কৈলাস নাগরে শুধু একজন কৃষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন তার গ্রামের একজন সচেতন নাগরিক। গ্রামবাসীদের জলের সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি একা লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন। তার সুইসাইড নোটে উল্লেখিত ১৪টি গ্রামের কৃষকদের জন্য জল সরবরাহের দাবি তার এই সংগ্রামের প্রমাণ। তবে তার এই আত্মত্যাগ সরকারের নীতি ও প্রতিশ্রুতির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
কৃষক আত্মহত্যার উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান
মহারাষ্ট্রে কৃষকদের আত্মহত্যা কোনো নতুন ঘটনা নয়। সম্প্রতি রাজ্য সরকার স্বীকার করেছে যে, গত ৫৬ মাসে প্রতিদিন গড়ে আটজন কৃষক আত্মহত্যা করছেন। বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী মকরন্দ যাদব পাতিল গত ১০ মার্চ নিশ্চিত করেছেন যে, ২০২৪ সালে মারাঠওয়াড়া বিভাগে ৯৫২ জন, আকোলায় ১৬৮ জন, ওয়ার্ধায় ১১২ জন, বীডে ২০৫ জন এবং অমরাবতী বিভাগে ১,০৬৯ জন কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন। এই পরিসংখ্যান রাজ্যের কৃষকদের দুর্দশার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
মন্ত্রী মকরন্দ যাদব পাতিল বিধানসভায় জানিয়েছেন, সরকার কৃষকদের আত্মহত্যার কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য সাহায্যের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে কৈলাস নাগরের মতো একজন সরকার-সম্মানিত কৃষকের আত্মহত্যা সরকারের প্রচেষ্টার সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সমাজে শোকের ছায়া
কৈলাস নাগরের আত্মহত্যা শুধু তার পরিবারের জন্য নয়, গোটা বুলধানা জেলার জন্য একটি বড় ধাক্কা। তার সংগ্রাম ও ত্যাগ এলাকার কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণা হলেও, তার মৃত্যু জল সংকট ও কৃষকদের দুর্দশার সমাধানে সরকারের ব্যর্থতার একটি মর্মান্তিক প্রতিফলন। এই ঘটনা মহারাষ্ট্রের কৃষি সংকটকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরেছে, যা অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি রাখে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে কৃষক সমাজ এখন প্রশ্ন তুলছে—সরকারের সম্মান কি কৃষকদের জীবন বাঁচাতে পারবে?