সোনাপাচারে গ্রেফতার অভিনেত্রীর বাড়িতে তল্লাশি, ২ কোটির সোনা ও নগদ ২.৫ কোটি টাকা উদ্ধার

সোনা পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার কন্নড় অভিনেত্রী রান্যা রাও বর্তমানে জেলবন্দি। এর মধ্যে তাঁর লাভেলে রোডের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করেছে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও রসিদবিহীন সোনা। ঘটনাটি নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কর্ণাটকের সিনে জগতে।
গত কয়েকদিন আগে বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১৫ কেজি সোনা নিয়ে গ্রেপ্তার হন রান্যা। এই সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা। গ্রেপ্তারের পর ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই) তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের সোনা এবং ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা নগদ। অভিনেত্রী এই টাকা ও সোনার কোনও বৈধ রসিদ দেখাতে পারেননি।
দুবাই থেকে সোনা কেনা, জেনেভার নামে ভারতে প্রবেশ
দুবাইয়ের শুল্ক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে রান্যা দুবাই থেকে সোনা কিনেছিলেন। সেসময় তিনি জানিয়েছিলেন, এই সোনা নিয়ে তিনি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যাবেন। কিন্তু তিনি সেখানে না গিয়ে ভারতে ফিরে আসেন। তদন্তে জানা গেছে, গত ১৫ দিনে তিনি চারবার দুবাই সফর করেছেন এবং এর আগেও তিনি দুবাই থেকে ভারতে বিনা বাধায় সোনা পাচার করেছেন।
রান্যার এই ঘন ঘন দুবাই-ভারত সফরে সন্দেহ জাগে ডিআরআই গোয়েন্দাদের। বিমানবন্দরে তাঁকে গ্রেপ্তারের পর তিনি দাবি করেন, তাঁকে ব্ল্যাকমেল করে সোনা পাচারে বাধ্য করা হয়েছে। তবে তদন্তকারীদের দাবি, অভিনেত্রী তদন্তে কোনও সহযোগিতা করছেন না। পুলিশ মনে করছে, তাঁকে হেফাজতে না রাখলে প্রমাণ নষ্টের আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁর জামিন পাওয়া কঠিন হতে পারে বলে মত পুলিশ কর্মকর্তাদের।
স্বামীও জড়িত? বিয়ের ভিডিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ
তদন্তে পুলিশের ধারণা, শুধু রান্যা নন, এই চোরাচালান চক্রে তাঁর স্বামী জতিন হুক্কেরিও জড়িত থাকতে পারেন। সম্প্রতি বিয়ে করা এই দম্পতির বিয়ের ভিডিও এবং অতিথি তালিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অতিথিদের মধ্যে কেউ এই সোনা পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত কিনা, তা জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশের অনুমান, এর মাধ্যমে আরও বড় কোনও চক্রান্তের হদিস মিলতে পারে।
লাভেলে রোডে তল্লাশি, বড় অঙ্কের সম্পত্তি উদ্ধার
গ্রেপ্তারের পর লাভেলে রোডে রান্যার বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় পুলিশের হাতে আসে ২ কোটি টাকার সোনা এবং ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা নগদ। এই সম্পত্তির উৎস সম্পর্কে কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি অভিনেত্রী। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই টাকা ও সোনা অবৈধ পাচারের মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে।
তদন্তে নতুন মোড়
ডিআরআই সূত্রে জানা গেছে, রান্যা সম্ভবত একটি বড় চোরাচালান চক্রের অংশ। তাঁর ঘন ঘন দুবাই সফর এবং বিমানবন্দরে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে। পুলিশ এখন রান্যার স্বামীসহ অন্য সম্ভাব্য সহযোগীদের খুঁজে বের করতে তৎপর। এই ঘটনা কন্নড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
তদন্তে আরও কী কী রহস্য উন্মোচিত হয়, সেদিকে নজর রয়েছে সকলের।