FFC চ্যালেঞ্জ লিগে আর্কাদাগের কাছে হার, লাল হলুদের স্বপ্নভঙ্গ

ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের শুরুটা করেছিল চমৎকার। মাত্র ১ মিনিটের মাথায় দিমিত্রিয়সের পাস থেকে মেসি বাউলি গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। কিন্তু এরপরই ম্যাচের গতি বদলে যায়। ১১ মিনিটে চুনুঙ্গা প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন। এরপর ৩৩ মিনিটে তিনি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। আর্কাদাগের একজন খেলোয়াড়কে পিছন থেকে আক্রমণ করায় রেফারি তাকে লাল কার্ড দেখান।

প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ গোলে ইস্টবেঙ্গলের এগিয়ে থাকার মধ্য দিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে লাল হলুদ ব্রিগেড। কিন্তু ৮৭ মিনিটে সৌভিক দত্তের বক্সের মধ্যে একটি বাজে ট্যাকলের কারণে পেনাল্টি পায় আর্কাদাগ। ৮৮ মিনিটে আন্নাদুরদিয়েভ পেনাল্টি ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে ম্যাচের সমতা ফিরিয়ে আনেন। এরপর ৯৬ মিনিটে হাইড্রো দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচের ফলাফল ২-১ করে দেন।

প্রস্তুতিতে সমস্যা
তুর্কমেনিস্তানে ম্যাচ খেলতে গিয়ে ইস্টবেঙ্গল নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়। হোটেলে কার্যত বন্দি অবস্থায় থাকতে হয় খেলোয়াড়দের। অনুশীলনের মাঠের অবস্থাও ছিল খুবই খারাপ। অসমান মাঠে অনুশীলন করতে গেলে চোট পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবুও এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামে ইস্টবেঙ্গল।

গ্রুপ পর্বে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স
এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বে ইস্টবেঙ্গল ভালো পারফরম্যান্স করেছিল। ভূটানে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচের মধ্যে দুটিতে জয় এবং একটিতে ড্র করে শীর্ষস্থান দখল করেছিল লাল হলুদ ব্রিগেড। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে তারা আর্কাদাগের মুখোমুখি হয়। কিন্তু দুটি লেগ মিলিয়ে ৩-১ গোলে হেরে তাদের স্বপ্ন ভেঙে যায়।

উপসংহার
এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ থেকে বিদায় নেওয়ার মধ্য দিয়ে ইস্টবেঙ্গলের আন্তর্জাতিক অভিযান শেষ হল। আইএসএলে ব্যর্থতার পর এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে ভালো করার আশা ছিল লাল হলুদ ভক্তদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা পূরণ হয়নি। এখন দলকে ফোকাস করতে হবে ঘরোয়া লিগ এবং অন্যান্য টুর্নামেন্টে। আগামী দিনে কীভাবে দল গড়ে তোলা যায় এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে কোচ অস্কার ব্রুজো এবং দল পরিচালনাকে।