SPORTS: “১০ জনে লড়ে অবশেষে হার”—AFC চ্যালেঞ্জ লিগে বিদায় ইস্টবেঙ্গলের

এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে হেরে বিদায় নিল ইস্টবেঙ্গল। তুর্কমেনিস্তানের ক্লাব আর্কাদাগের ঘরের মাঠে প্রথম মিনিটে গোল দিয়ে এগিয়ে গেলেও, সেই লিড ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় অস্কার ব্রুজনের দল। ম্যাচ শেষ হয় ২-১ গোলে আর্কাদাগের জয়ে। প্রথম লেগে ঘরের মাঠে হার এবং আইএসএল-এ নর্থইস্ট ইউনাইটেডের কাছে জুনিয়র দলের পরাজয়ের পর এই ম্যাচে জয় ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেখানেও হতাশ করল ইস্টবেঙ্গল।

ম্যাচের শুরুতে আশা
ম্যাচের প্রথম মিনিটেই মেসি বাউলির গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। লাল-হলুদ ফুটবলারদের মধ্যে দারুণ বিল্ডআপ প্লে দেখা যায়। ডান দিক থেকে ডিমানটাকোসের শট বাঁচানোর চেষ্টা করেন আর্কাদাগের গোলকিপার চায়েভ রসুল। কিন্তু তাঁর হাতে লাগা বল মেসির পায়ে চলে আসে, আর গোল করতে ভুল করেননি তিনি। ১৭ মিনিটে তিনজন ফুটবলারকে ড্রিবল করে অসাধারণ শট মারেন ডিমানটাকোস, তবে তা বারে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচের শুরুতে গ্রীক স্ট্রাইকারের খেলা দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি মরসুমের শেষে ছন্দে ফিরেছেন।

ছন্দপতন ও লাল কার্ড
কিন্তু ৩৪ মিনিটে সব আশায় জল ঢেলে দেয় লালচুংনুঙ্গার লাল কার্ড। বক্সের কাছাকাছি ফ্রিকিক দেয় আর্কাদাগ, যদিও সেখান থেকে গোল আসেনি। প্রথমার্ধে আর কোনও গোল না হলেও, ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ইস্টবেঙ্গলের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। এরপরও মেসির সামনে দুটো সুযোগ এসেছিল, কিন্তু দু’বারই চায়েভ রসুল তা ব্যর্থ করে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধে হার
দ্বিতীয়ার্ধে ৫২ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল আরেকটি গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে। ৭৬ মিনিটে পরিবর্ত হিসেবে নামা উরাজভের শট দারুণভাবে বাঁচান গোলকিপার প্রভসুকান গিল। ৮৪ মিনিটে সৌভিক চক্রবর্তীর শট বাইরে চলে যায়, আর পরের মিনিটে গিলের আরেকটি সেভ দলকে লড়াইয়ে রাখে। কিন্তু ৮৯ মিনিটে তিরিকুসভের বিরুদ্ধে বক্সে সৌভিকের ট্যাকল পেনাল্টি এনে দেয়। আন্নাদুরিইয়েভ সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমতা ফেরান।

শেষ মুহূর্তে ভাঙন
অতিরিক্ত সময়ে কাউন্টার অ্যাটাকে আর্কাদাগের দারুণ ফিনিশে ২-১ গোলে এগিয়ে যায় তারা। ১০ জনের ইস্টবেঙ্গলের তখন ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি বা সময় কোনওটাই ছিল না। ফলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় লাল-হলুদ ব্রিগেডকে।

টিমের বর্তমান অবস্থা
প্রথম লেগে হার এবং আইএসএল-এ জুনিয়র দলের পরাজয়ের পর তুর্কমেনিস্তান সফরে এই ম্যাচ ছিল ইস্টবেঙ্গলের জন্য বিশেষ। তবে হারের ফলে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ থেকে ছিটকে গেল তারা। সমর্থকদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়েছে, এবং দলের বর্তমান ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই হার ইস্টবেঙ্গলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।