‘ঘুষ’ চাইছেন, নাকি ভুয়ো অভিযোগ? পাসপোর্ট যাচাইয়ে BIG STEP নিলো প্রশাসন

পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের প্রক্রিয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ কি সত্যি? নাকি নথিপত্রে গরমিল ধরা পড়ায় আবেদনকারীরা পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন? এই ধরনের নানা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এবার ‘ভার্চুয়াল লিঙ্ক’–এর মাধ্যমে আবেদনকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পরিকল্পনা নিয়েছে কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজার।

বর্তমানে চালু হওয়া নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী, পাসপোর্ট আবেদনকারীদের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার সময় তাঁদের মোবাইলে একটি লিঙ্ক পাঠানো হচ্ছে। ওই লিঙ্কে ক্লিক করলেই একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট খুলছে, যেখানে ভেরিফিকেশনের দায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসারের নাম এবং আবেদনকারীর জমা দেওয়া নথির তথ্য দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও, কোনও অভিযোগ থাকলে বা পুলিশের তরফে অতিরিক্ত নথি চাওয়া হলে, আবেদনকারীরা ওই লিঙ্কের মাধ্যমেই তা আপডেট বা মন্তব্য করতে পারছেন।

এই পরিষেবা প্রথমে পাইলট প্রকল্প হিসেবে কলকাতা পুলিশের সাউথ সাবার্বান এবং সাউথ ইস্ট ডিভিশনে চালু করা হয়েছে। এতে ইতিমধ্যে সাফল্যও এসেছে। এবার লালবাজারের পরিকল্পনা, শীঘ্রই প্রতিটি ডিভিশনে এই পরিষেবা পুরোপুরি চালু করা। পুলিশ কর্তাদের দাবি, “এই পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হলে দুর্নীতি কমবে এবং ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে।”

পাসপোর্ট জালিয়াতির ঘটনায় উদ্বেগ
গত কয়েক মাসে পশ্চিমবঙ্গে পাসপোর্ট জালিয়াতির একাধিক ঘটনায় শোরগোল পড়ে গেছে। এই অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের একজন প্রাক্তন অফিসারও। সম্প্রতি বন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া লক্ষ্মণ কুমার নামে এক অভিযুক্তকে জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, ভিন রাজ্য থেকে জন্মের ভুয়ো শংসাপত্র আনিয়ে অনেকে এ রাজ্যে পাসপোর্টের আবেদন করেছেন। এই জালিয়াতি রুখতে নিয়ম আরও কঠোর করার পরিকল্পনা নিয়েছে কলকাতা পুলিশের সিকিউরিটি কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (এসসিও)। ফলে প্রতিটি আবেদন এখন খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভেরিফিকেশনে চাপ ও জটিলতা
কলকাতার পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্রে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। সূত্রের খবর, প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ আবেদনের ভেরিফিকেশন করতে হয় পুলিশকে, যা মাসে প্রায় ১২ হাজার। এর মধ্যে দৈনিক গড়ে ৫০ জনের নথিতে সমস্যা ধরা পড়ে, যার রিপোর্ট পাসপোর্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। অনেক আবেদনকারী ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে জটিলতার মুখে পড়েন। এই সমস্যা কাটাতে এখন অনলাইনে তথ্য সংগ্রহের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার লক্ষ্য
নতুন এই ‘ভার্চুয়াল লিঙ্ক’ পদ্ধতির মাধ্যমে পুলিশ ও আবেদনকারীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ঘুষ চাওয়ার মতো অভিযোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে, তেমনই ভুয়ো নথি জমা দেওয়ার প্রবণতাও ধরা পড়বে। লালবাজারের এক আধিকারিক জানান, “এই প্রযুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হলে পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য হবে।”

পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন নিয়ে আবেদনকারীদের অভিযোগ ও পুলিশের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় এই নতুন পদক্ষেপ কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে, এই উদ্যোগকে অনেকেই স্বচ্ছতার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।