কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে যুবকের মৃত দেহ উদ্ধার, ট্রলির মধ্যে পাকানো সেই দেহ! তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ

কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় আতঙ্কের নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো। গত কয়েকদিন আগেই কুমোরটুলিতে ট্রলি ব্যাগ থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তোলপাড় তৈরি হয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একইভাবে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ধারে ট্রলি ব্যাগে পাওয়া গেল এক যুবকের মৃতদেহ। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে একজন এখনও ফাঁড়া কাটিয়ে পালিয়েছে। তার খোঁজে জোর তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে। দমদমের নাগেরবাজার এলাকা থেকে দুই যুবক একটি অ্যাপ ক্যাব বুক করে। তাদের সঙ্গে ছিল একটি বড় ট্রলি ব্যাগ এবং একটি বস্তা। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের মহিষপোতা এলাকার একটি নির্জন ও অন্ধকার জায়গায় গাড়ি থামাতে বলে তারা। সেখানে ট্রলি ব্যাগ নামানোর সময় ক্যাব ড্রাইভারের সন্দেহ হয়। ব্যাগের ওজন অস্বাভাবিক বেশি মনে হওয়ায় তিনি এর ভিতরে কী আছে জানতে চান। এমনকি ব্যাগ খুলে দেখানোরও অনুরোধ করেন তিনি।
এই নিয়ে ক্যাব ড্রাইভার ও যুবকদের মধ্যে তর্কাতর্কি বেঁধে যায়। ঠিক সেই সময় সেখানে পুলিশের একটি টহল গাড়ি উপস্থিত হয়। পুলিশকে দেখে এক যুবক দ্রুত পালিয়ে যায়, অন্যজনকে ক্যাব ড্রাইভার ধরে ফেলেন এবং পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। এরপর ট্রলি ব্যাগ খোলা হলে চাঞ্চল্যকর দৃশ্য দেখা যায়। ব্যাগের ভিতরে ছিল এক যুবকের মৃতদেহ, যার মুখ সেলোটেপ দিয়ে মোড়ানো এবং পুরো দেহ রক্তে ভেসে যাওয়ার অবস্থায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত যুবকটি একজন কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন। মুক্তারামবাবু স্ট্রিটে তার কাপড়ের গুদাম ছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, টাকার লোভে তারই দুই ব্যবসায়িক পার্টনার তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। মৃতদেহটি ট্রলি ব্যাগে করে খালে ফেলার পরিকল্পনা ছিল তাদের, কিন্তু ক্যাব ড্রাইভারের সতর্কতায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
ট্রলি ব্যাগের ভিতর থেকে একটি রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র এবং ৬৫ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত দুইজনকে জেরা করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, পালিয়ে যাওয়া তৃতীয় ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে তল্লাশি অভিযান চলছে।
এই ঘটনায় কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে ও তার আশেপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করা হবে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা একাধিক প্রশ্ন তুলে ধরেছে। কীভাবে এত বড় পরিকল্পনা করে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হলো? পুলিশের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন কি না? এই ঘটনা কলকাতার শান্তিপ্রিয় বাসিন্দাদের মনে নতুন করে আতঙ্কের বীজ বপন করেছে।