“১.৯৫ লক্ষ কোটি টাকার GST ফাঁকি”-সাংসদ ‘দেব’-কে হিসেব দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সেন্ট্রাল জিএসটি আধিকারিকরা ২৫,৩৯৭টি জিএসটি ফাঁকির ঘটনা শনাক্ত করেছেন। এই ফাঁকির আর্থিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.৯৫ লক্ষ কোটি টাকা। সোমবার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এই তথ্য জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধরি।
এদিন ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব) কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে গত তিন বছরে রাজ্যভিত্তিক জিএসটি আদায়ের বিস্তারিত তথ্য, জিএসটি চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তার আদায় কত হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, জিএসটি ফাঁকির পরিমাণ এবং তার ফলে রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ, কোন রাজ্যে জিএসটি আদায় সবচেয়ে বেশি এবং কোন রাজ্য প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে—এমন ছয়টি প্রশ্নের উত্তর জানতে চান। এর জবাবে পঙ্কজ চৌধরি উল্লিখিত তথ্য প্রকাশ করেন।
পশ্চিমবঙ্গে জিএসটি আদায়ে উন্নতি:
চৌধরি জানান, চলতি অর্থবছরের এপ্রিল থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে জিএসটি আদায় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭,১৪০ কোটি টাকা থেকে ৬১,০৬৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। জিএসটি আদায়ের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ দেশের রাজ্যগুলির মধ্যে অষ্টম স্থানে রয়েছে।
গত পাঁচ বছরের চিত্র:
লোকসভায় পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকরা ৮৬,৭১১টি জিএসটি ফাঁকির ঘটনা শনাক্ত করেছেন, যার আর্থিক মূল্য ৬.৭৯ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ২৫,৩৯৭টি জিএসটি ফাঁকির ঘটনায় ১,৯৪,৯৩৮ কোটি টাকার ফাঁকি ধরা পড়েছে। এই সময়ে কর ফাঁকির ঘটনায় স্বেচ্ছায় ২১,৫২০ কোটি টাকা জমা পড়েছে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
আয়কর ফাঁকির তথ্য:
২০২৪-২৫ অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত কর আধিকারিকরা ১৩,০১৮টি আয়কর ফাঁকির ঘটনা শনাক্ত করেছেন। এর মাধ্যমে ৪৬,৪৭২ কোটি টাকার আয়কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২,২১১ কোটি টাকা স্বেচ্ছায় জমা দেওয়া হয়েছে।
বিগত বছরগুলির পরিসংখ্যান:
জিএসটি ইনভেস্টিগেশন উইং-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২০,৫৮২টি ঘটনায় ২.৩০ লক্ষ কোটি টাকার জিএসটি ফাঁকি ধরা পড়েছিল। এর আগের বছরগুলিতে—২০২২-২৩-এ ১.৩২ লক্ষ কোটি টাকা, ২০২১-২২-এ ৭৩,২৩৮ কোটি টাকা এবং ২০২০-২১-এ ৪৯,৩৮৪ কোটি টাকার জিএসটি ফাঁকি শনাক্ত হয়েছিল।
কর ফাঁকি রুখতে পদক্ষেপ:
কর ফাঁকি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং জিএসটিএন একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে চৌধরি জানান। এর মধ্যে রয়েছে ইন্টেলিজেন্স ইনপুট সংগ্রহ, জাল নথিভুক্তি শনাক্তকরণ এবং সন্দেহজনক ই-ওয়ে বিলের উপর নজরদারি। এছাড়া, ফেসিয়াল রেকগনিশন সিস্টেম (এফআরএস) এবং ই-ওয়ে বিল তথ্য বিশ্লেষণের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি কর ফাঁকি রোধে সহায়ক বলে মন্ত্রী দাবি করেন।
এই তথ্য প্রকাশের পর জিএসটি আদায় এবং কর ফাঁকির ঘটনা নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।