“কঠিন পরিস্থিতিতেও আমি পারবো..ব্যর্থতা থেকেই এই আত্মবিশ্বাস” – বললেন শ্রেয়স

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫-এ ভারতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেননি শ্রেয়স আইয়ার। ভারতীয় দলের অধিনায়ক রোহিত শর্মা তাঁকে ‘সাইলেন্ট হিরো’ বলে প্রশংসা করেছেন। কিন্তু শ্রেয়সের অভিমান রয়েছে—তিনি সব সময় তাঁর সাফল্যের স্বীকৃতি পাননি।
এক সাক্ষাৎকারে শ্রেয়স বলেছেন,“সত্যি বলতে, এটা একটা অসাধারণ যাত্রা। আমি জীবনের এই পর্যায়ে এসে অনেক কিছু শিখেছি।”২০২৩ সালে ওডিআই বিশ্বকাপ খেলার পর কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়েছিলেন শ্রেয়স। তখন তিনি নিজের খেলা ও ফিটনেস নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। তিনি বলেন,“আমি নিজের ভুলগুলো বিশ্লেষণ করেছি। বুঝেছি, আমাকে কোথায় উন্নতি করতে হবে। নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে গিয়ে বুঝেছি, ফিটনেস কতটা গুরুত্বপূর্ণ।”
সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজের জাত চিনিয়েছেন শ্রেয়স। কঠিন পরিস্থিতিতে দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন তিনি।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর রোহিত শর্মা তাঁকে ‘সাইলেন্ট হিরো’ বলেছেন। তাতে খুশি হলেও, কোথাও যেন একটা অভিমান রয়ে গেছে শ্রেয়সের মনে। তিনি বলেন,“সব সময় আমার কাজের স্বীকৃতি পাইনি। আমার প্রচেষ্টা অনেক সময় অলক্ষিত থেকে গেছে। তবে আমি নিজের কাজে সন্তুষ্ট। কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট করতে হলেও আমার বিশ্বাস ছিল যে, ম্যাচ বের করে আনতে পারব।”
ওয়ানডেতে চার নম্বর পজিশনে ব্যাট করা খুবই চ্যালেঞ্জিং। এই পজিশন হল টপ অর্ডার ও লোয়ার অর্ডারের সংযোগকারী। কিন্তু শ্রেয়স নিজের কাজটা নিখুঁতভাবে করেছেন। তিনি বলেন,“আমি চুপচাপ ব্যাট করতে আসি না, বরং আমার পুরো হৃদয় দিয়ে খেলি। আমার মনে অনেক কিছু চলে, কিন্তু আমার আত্মবিশ্বাসই আমাকে লড়াই চালিয়ে যেতে সাহায্য করে।”
প্রত্যাখ্যান ও ব্যর্থতা তাঁকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। তাঁর কথায়,“কঠিন সময়েই বোঝা যায়, ঘুরে দাঁড়ানোর দায়িত্ব শুধু নিজেরই নিতে হয়।”
ব্যক্তিগত রানের চেয়েও দলের জয়কেই বড় করে দেখেন শ্রেয়স। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর তিনি বলেন,“ট্রফি জয়ের চেয়ে মধুর কিছু নেই। ভারতের মানুষ খুশি, এটাই আসল আনন্দের বিষয়।”শ্রেয়স আইয়ার সত্যিই ভারতীয় ক্রিকেটের এক অপ্রকাশিত নায়ক, যিনি আলোচনার বাইরে থেকে নিজের কাজটা চুপচাপ করেই যান, কিন্তু ফলাফল সবসময় তাঁর পক্ষেই কথা বলে।