“স্পিকার সংবিধান মানেন না”- শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগে ফের উত্তাল বিধানসভা

সোমবারের পর মঙ্গলবারও রাজ্য বিধানসভায় উত্তেজনার পারদ চড়ল। বাজেট অধিবেশনে সাসপেন্ড হওয়ায় অংশ নিতে পারেননি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে এদিনও তিনি বিধানসভা চত্বরে উপস্থিত ছিলেন এবং তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “স্পিকার সংবিধান মানেন না। আগামিকাল ব্যাপক বিক্ষোভের জন্য তাঁকে প্রস্তুত থাকতে বলছি। আমাদের বিধায়করা মুলতুবি প্রস্তাব আনবেন। গত চার বছরে নয় মাস ধরে বিজেপি বিধায়কদের হাউসের বাইরে রাখার প্রতিবাদে এবং যাদবপুরের ঘটনার জন্য এই প্রস্তাব আনা হবে।”

শুভেন্দু অধিকারী আরও অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে হিন্দু দেবদেবীর মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপি বিধায়করা অ্যাডজর্নমেন্ট মোশন আনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিধানসভার অন্দরে তাঁদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই কারণেই তাঁরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বলে জানান বিরোধী দলনেতা। তিনি আরও ঘোষণা করেন, আগামী ১৯ তারিখ স্পিকারের কেন্দ্র বারুইপুরে সংখ্যালঘু তোষণের বিরুদ্ধে বিজেপি বিধায়করা কালো ব্যাচ পরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবেন।

তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কটাক্ষ:

শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তৃণমূলের ভবিষ্যৎ হবে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির মতো। তিনি বলেন, “দিল্লিতে বীজেন্দ্র গুপ্ত একমাত্র বিজেপি বিধায়ক ছিলেন। কেজরিওয়াল তাঁকে বাইরে বের করে দিয়েছিলেন। তারপর দেখুন তাদের কী দশা হলো। এখন বীজেন্দ্র গুপ্ত দিল্লির স্পিকার।” তিনি এই উদাহরণ টেনে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কটাক্ষ করেন এবং রাজ্য বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অসাংবিধানিক ও ঔদ্ধত্যমূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন।

বিধানসভায় উত্তেজনা:

বাজেট অধিবেশন চলাকালীন বিজেপি বিধায়কদের সাসপেনশন এবং তাঁদের দাবি-দাওয়া উপেক্ষা করার ঘটনায় বিধানসভার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি আগামী দিনে আরও তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, সেদিকে নজর রয়েছে সকলের।