বাঘের থাবায় গুরুতর জখম বনকর্মী! অবশেষে বাড়ি ফিরলেন গণেশ, কী হয়েছিল সেদিন?

সুন্দরবনের অস্থায়ী বনকর্মী গণেশ শ্যামলের জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সকাল ছিল ১০ ফেব্রুয়ারি। টাইগার কুইক রেসপন্স টিমের সদস্য গণেশবাবু সেদিন বাঘের থাবায় গুরুতর আহত হন। হাসপাতাল থেকে দিন কয়েক আগে ছাড়া পেলেও এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। ডান চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে, তবে এখনও ঝাপসা দেখেন।

কী ঘটেছিল সেদিন?

সেদিন করমচা বাগান লাগোয়া ধানখেতে কাজ করছিলেন ভগীরথ মণ্ডল নামে এক বয়স্ক গ্রামবাসী। হঠাৎ করেই বনের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে এক বিশাল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। বাঘটি সোজা ভগীরথ মণ্ডলের দিকে ঝাঁপাতে উদ্যত হয়। আতঙ্কে বৃদ্ধ গাছে উঠে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন।

বনকর্মীরা তখন গ্রামে ঢুকে পড়া বাঘটিকে খুঁজছিলেন। গণেশ শ্যামল ভয় না পেয়ে লাঠি হাতে বাঘের সামনে দাঁড়িয়ে যান। বিদ্যুতের গতিতে বাঘটি গণেশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং মুখের ডানদিকে একাধিক থাবা বসিয়ে দেয়

কীভাবে প্রাণে বাঁচলেন গণেশবাবু?

বাঘ যখন গণেশের উপর আক্রমণ চালাচ্ছিল, তখন অন্যান্য বনকর্মীরা লাঠি নিয়ে বাঘের দিকে তেড়ে আসেন। একটানা আঘাতের ফলে বাঘ শিকার ছেড়ে পিছু হটে। পরে সেটিকে বনাঞ্চলের গভীরে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তী চিকিৎসা ও পরিস্থিতি

গুরুতর আহত গণেশবাবুকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় এক মাস চিকিৎসার পর দিন কয়েক আগে ছাড়া পেয়েছেন। তবে এখনও পুরোপুরি সুস্থ হননি। ডান চোখে অস্ত্রোপচার করা হলেও দৃষ্টি আবছা রয়েছে

সাহসিকতার প্রশংসা, পুরস্কারের দাবি

বন দফতরের একাধিক আধিকারিক গণেশবাবুর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা চাইছেন, গণেশবাবুকে সরকারি পুরস্কার ও স্থায়ী চাকরি দেওয়া হোক। তার এই সাহসিকতা না থাকলে হয়তো ভগীরথ মণ্ডল প্রাণে বাঁচতে পারতেন না

এই ঘটনা সুন্দরবনের বাঘ-মানুষের সহাবস্থানের কঠিন বাস্তবতাকে আরও একবার সামনে আনল। বনকর্মীরা নিজের জীবন বাজি রেখে যেভাবে মানুষকে রক্ষা করছেন, প্রশাসনের উচিত তাঁদের আরও নিরাপত্তা ও সুবিধা প্রদান করা।