মন্ত্রিসভার বৈঠক-এর সময় ও স্থান পরিবর্তন, নবান্নে বসবে বৈঠক

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের সময় ও স্থানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে নির্ধারিত ছিল যে বৃহস্পতিবার (১৩ তারিখ) দুপুর তিনটেয় বিধানসভায় মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে, নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, এখন এই বৈঠক বিকেল ৫টায় নবান্নে অনুষ্ঠিত হবে। এই পরিবর্তনের ফলে, বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছিল যে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় উপস্থিত হয়ে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে যোগ দেবেন। তবে, মন্ত্রিসভার বৈঠক নবান্নে সরিয়ে নেওয়ায় এখন এই বিষয়টি নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরগুলির আলোচনা না হওয়া নিয়ে বিরোধী দল বিজেপি ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকবার অভিযোগ তুলেছে। এবারও স্বাস্থ্য দপ্তরের বাজেট নিয়ে আলোচনা হলেও স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। গিলোটিনের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট বরাদ্দ পাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
পঞ্চায়েত দপ্তরের বাজেট নিয়ে আলোচনা
আগামী সপ্তাহে পঞ্চায়েত দপ্তরের বাজেট নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পঞ্চায়েত দপ্তরের জন্য সর্বাধিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ ধারণা করছিল যে মুখ্যমন্ত্রী এই দিন বিধানসভায় উপস্থিত হয়ে বিতর্কে অংশ নিতে পারেন। তবে, মন্ত্রিসভার বৈঠক নবান্নে সরিয়ে নেওয়ায় এখন এই সম্ভাবনা কমে গেছে।
দোল উৎসব ও আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা
কিছু বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিসভার বৈঠকের সময় ও স্থান পরিবর্তনের পেছনে দোল উৎসবের প্রস্তুতি এবং রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনার বিষয়টি জড়িত থাকতে পারে। দোল উৎসবের আগে রাজ্যের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতেই মুখ্যমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
১০ দিনের অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি
এই পরিবর্তনের পর এখন দেখার বিষয়, ১০ দিনের বিধানসভা অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো দিন উপস্থিত হন কি না। মন্ত্রিসভার বৈঠক নবান্নে সরিয়ে নেওয়ায় বিধানসভায় তাঁর উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দলগুলি এর আগেই বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর নিয়মিত উপস্থিতির অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এবারও তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সর্বোপরি, মন্ত্রিসভার বৈঠকের সময় ও স্থান পরিবর্তন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী দিনগুলিতে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব এবং মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভায় উপস্থিতি নিয়ে সকলের নজর থাকবে।