মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ উত্থাপন করলেন পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী

পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ভাঙড় পঞ্চায়েত সমিতি-১ এবং ভাঙড় পঞ্চায়েত সমিতি-২ গত আড়াই বছর ধরে তার কাজে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং সময় নষ্ট করেছে। এ বিষয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।
নওশাদ বলেন, “জেলা থেকে একটি অর্ডার জারি করা হয়েছে, যেখানে এডিএম (ডেভেলপমেন্ট)-এর সই রয়েছে। কিন্তু তারা আমার কাজটি আবার সেই পঞ্চায়েত সমিতির হাতে ফেরত দিয়েছে, যারা ইতিমধ্যেই আড়াই বছর আমার সময় নষ্ট করেছে। আমার সঙ্গে কোনো আলোচনা বা জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যত সময় ইউসি (ইউনাইটেড সেন্টার) দেওয়া হয় না, ততই আমার কাজের গুণগত মান খারাপ হয়েছে। ওখানে নেমপ্লেট আসেনি যে, এটি আমার বিধায়ক তহবিলের কাজ। আমি সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছি, কিন্তু তারপরেও যদি আমার কাজ ঠিকঠাকভাবে না করা হয়, তাহলে আর কিছু বলার নেই।”
নওশাদ সিদ্দিকী আরও বলেন, “আমি আমার বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে এসে এই কাজ করাতে পারব। আমার ৩ কোটি টাকা খরচ করার ক্ষমতা আছে। সেই টাকা আমি খরচ করব। কিন্তু আমি এই বিতর্কে যেতে চাই না যে কে কাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। আমার শুধু কাজ চাই।”
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার বেশিক্ষণ কথা হয়নি। সাড়ে ৫টার দিকে আমাকে সময় দেওয়া হয়েছিল। আমি আগেই চলে এসেছি। আমার যেসব বিষয় ছিল, সেগুলো উত্থাপন করেছি।”
নওশাদের এই বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারে। তার অভিযোগে পঞ্চায়েত সমিতির ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এখন দেখার বিষয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেন।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন এবং পঞ্চায়েত সমিতির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নওশাদের দাবি অনুযায়ী, যদি তার কাজে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করা হয়ে থাকে, তাহলে তা জনপ্রতিনিধি এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুতর ইস্যু হিসেবে দেখা দেবে।
এই পরিস্থিতিতে নওশাদের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং রাজ্য সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে সকলের নজর থাকবে।