“ফের মারতে এলেন স্যর”-ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢুকতেই বিক্ষোভে যাদবপুরের শিক্ষার্থীদের

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফের উত্তেজনা। সোমবার ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা কাটাতে প্রশাসনিক সভার আয়োজন করা হলেও, তার মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এবার বিক্ষোভের কেন্দ্রে সাদা পোশাকে পুলিশের উপস্থিতি। বিক্ষোভকারী ছাত্ররা অভিযোগ তুলেছেন, শুধু ক্যাম্পাসে নয়, এমনকি ডিপার্টমেন্টের ভিতরেও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তাদের প্রশ্ন, “গন্ডগোলের দিন পুলিশ কোথায় ছিল?”

এদিন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্র ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। ছাত্ররা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং অধ্যাপককে ঘিরে স্লোগান দিতে থাকেন। অভিযোগ, হাত জোড় করে ক্যাম্পাসে ঢোকা এই অধ্যাপকের সঙ্গে সাদা পোশাকে পুলিশ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনায় AIDSO এবং SFI-সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি সরব হয়েছে। প্ল্যাকার্ড হাতে ছাত্রদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।

জানা গেছে, সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর সংখ্যক সাদা পোশাকের পুলিশ কর্মী মোতায়েন রয়েছেন, যার মধ্যে মহিলা পুলিশও রয়েছেন। শুধু ক্যাম্পাসের বাইরে নয়, অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্রের ঘরের ভিতরেও পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে কে পুলিশ ডেকেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অধ্যাপক মিশ্র দাবি করেছেন, তিনি কোনও পুলিশ ডাকেননি। তিনি কেবল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন যে সোমবার তিনি ক্যাম্পাসে আসবেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্যই পুলিশ এসেছে বলে তিনি জানান।

এই উত্তেজনার সূত্রপাত গত ১ মার্চ, শনিবার। সেদিন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়ির ধাক্কায় ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ইন্দ্রানুজ রায় আহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকে বিচারের দাবিতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি বিক্ষোভে নামে। এই আন্দোলনের জেরে ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা তৈরি হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রণবকুমার গায়েন সোমবার একটি প্রশাসনিক সভার আয়োজন করেন। সেই সভায় যোগ দিতে ক্যাম্পাসে আসেন ওমপ্রকাশ মিশ্র। কিন্তু তাকে ঢুকতে বাধা দেন ছাত্ররা। এরপরই পুলিশের আগমন ঘটে। ছাত্রদের অভিযোগ, অধ্যাপক মিশ্র জোর করে ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়েন।

বিক্ষোভকারী ছাত্রদের দাবি, গন্ডগোলের সময় পুলিশের কোনও হস্তক্ষেপ ছিল না, কিন্তু এখন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যে পুলিশ ক্যাম্পাসে ঢুকেছে। এই ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলি জানিয়েছে, তারা ক্যাম্পাসে পুলিশের উপস্থিতি মেনে নেবে না। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট বক্তব্য দেয়নি।

এই ঘটনা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। পুলিশের ভূমিকা এবং প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকে নজর রাখছে সবাই।