মেক্সিকোর সংস্থার প্রতারণায় কোটি টাকার দেনা, ট্যাংরা হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর দাবি প্রসূনের

ট্যাংরায় তিনটি খুনের ঘটনায় নতুন মোড়। তদন্তে নেমে লালবাজারের গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দে পরিবারের খুনের পেছনে মেক্সিকোর একটি সংস্থা জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করেছেন খোদ ধৃত প্রসূন দে।
কী জানিয়েছেন প্রসূন দে?
লালবাজার সূত্রে জানা গেছে, প্রসূন দে অভিযোগ করেছেন যে, তাঁর সংস্থার তৈরি ৫০ কোটি টাকার চামড়ার গ্লাভসের অর্ডার মেক্সিকোর একটি সংস্থা একাধিকবার ফেরত পাঠায়। এই ঘটনার জেরেই তাঁদের পরিবারে আর্থিক সংকট নেমে আসে। প্রসূনের দাবি, সংস্থার ব্যবসায়িক দিক দেখতেন তাঁর ভাই প্রণয় দে, আর তিনি দায়িত্বে ছিলেন গ্লাভস রফতানির।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, প্রসূনদের সংস্থা কখনও ১০০ কোটি, কখনও ৬০ বা ৫০ কোটি টাকার গ্লাভস রফতানি করত মেক্সিকোর ওই সংস্থার কাছে। কিন্তু গত বছর ৫০ কোটি টাকার গ্লাভস ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর নতুন অর্ডার দেওয়া হলেও তা আবারও ফিরিয়ে দেওয়া হয়। প্রসূনের অভিযোগ, প্রথমবার বলা হয় গ্লাভস ছেঁড়া, দ্বিতীয়বার নিম্নমানের বলে অভিযোগ ওঠে। কিছুদিন ব্যবহার করার পর গ্লাভস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করে মেক্সিকোর সংস্থা।
আর্থিক সংকটের কারণেই হত্যাকাণ্ড?
একাধিকবার গ্লাভসের অর্ডার বাতিলের পর দে পরিবারের ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়। বিপুল ঋণের দায়ে পড়েন তাঁরা। পাওনাদারদের চাপ ক্রমেই বাড়তে থাকে। এমনকি ব্যাংকের ঋণ শোধ করতেও হিমশিম খাচ্ছিলেন তাঁরা। প্রসূন দাবি করেছেন, এই চরম অর্থনৈতিক সংকটের কারণেই পরিবারের সদস্যদের খুন করে নিজেদের শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
লালবাজারের প্রতিক্রিয়া
তবে, প্রসূন দের দাবিকে এখনই সম্পূর্ণ সত্য বলে মেনে নিতে নারাজ লালবাজার। কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, “গ্রেফতারের পর থেকে প্রসূন দে একাধিক বিতর্কিত তথ্য দিয়েছেন। সব তথ্য যাচাই-বাছাই করা জরুরি। আমরা এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য প্রসূন ও প্রণয় উভয়কেই জিজ্ঞাসাবাদ করব।”
এই মামলায় তদন্ত এখনও চলছে। প্রসূনের দাবির ভিত্তিতে মেক্সিকোর সংস্থার ভূমিকা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা। ভবিষ্যতে আরও নতুন তথ্য উঠে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।