১৩৮ কোটি দিয়ে কারখানা খুলতে চেয়েছিলেন সোনা পাচারে অভিযুক্ত নায়িকা, উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

ভারতের একটি বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ সোনা পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন কন্নড় চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী রান্যা রাও। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় সোয়া ১৪ কেজি সোনা, যার বাজার মূল্য আনুমানিক সাড়ে ১২ কোটি টাকা। ঘটনাটি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিনেত্রী দাবি করেছেন, তাকে ব্ল্যাকমেইল করে এই সোনা পাচারে বাধ্য করা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে জোর তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
এই মামলা নিয়ে নতুন করে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, কর্ণাটক সরকার রান্যা রাওয়ের জন্য আলাদা করে ১২ একর শিল্প জমি বরাদ্দ করেছিল। এই জমিতে একটি স্টিল টিএমটি বার উৎপাদন কারখানা স্থাপনের জন্য অভিনেত্রী ১৩৮ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। রান্যা এবং তার ভাই ঋষভ ‘ক্ষীরদা প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানির পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। ২০২৩ সালে কর্ণাটক শিল্প এলাকা উন্নয়ন বোর্ড (কেআইএডিবি) এই জমি বরাদ্দ করলেও, তা কোম্পানির হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট বিবৃতি দেয়নি বোর্ড।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, রান্যা রাও গত ৩ মার্চ বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে ফিরছিলেন। এ সময় রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (ডিআরআই) কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। তার শরীরে এবং পোশাকের মধ্যে লুকানো ছিল ১৪.২ কেজি সোনা। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিনেত্রী নিয়মিত দুবাই সফর করতেন, যা কর্তৃপক্ষের সন্দেহ জাগায়। এই ঘটনার পর তাকে ১৯৬২ সালের কাস্টমস আইনের অধীনে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৪ দিনের জন্য বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তাকে বেঙ্গালুরুর পরপ্পানা অগ্রহার কোয়ারেন্টাইন সেলে রাখা হয়েছে।
রান্যার দাবি, তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছিল এবং সোনা পাচারে জোর করে জড়ানো হয়। তবে তদন্তকারীরা এই দাবির সত্যতা যাচাই করছে এবং এর পেছনে কোনো বৃহত্তর চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। এদিকে, তার বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে অতিরিক্ত সোনার গহনা এবং নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৪.৭৩ কোটি টাকা। এটি মামলার মোট জব্দকৃত সম্পত্তির পরিমাণ ১৭.২৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
এই ঘটনা রান্যা রাওয়ের ব্যক্তিগত জীবন এবং পেশাগত কার্যকলাপের ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তিনি কন্নড় চলচ্চিত্র ‘মানিক্য’ ও ‘পটাকি’র মতো ছবিতে অভিনয়ের জন্য পরিচিত। তবে তার এই শিল্প প্রকল্প এবং সোনা পাচারের ঘটনা নিয়ে তদন্ত আরও গভীর হলে অনেক অজানা তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কর্ণাটকের শিল্প মহলে এই ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সরকারের জমি বরাদ্দ এবং বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির বিষয়টি এখন তদন্তের আওতায় এসেছে। পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, এত বড় মাপের প্রকল্পে জড়িত একজন অভিনেত্রী কীভাবে এমন অপরাধে জড়িয়ে পড়লেন? তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে এই রহস্যের জট খোলা।