‘ক্ষমা করে দাও’, রাজীব-কল্যাণের মিলন, ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে TMC -র নতুন সমীকরণ?

আগামী ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করল রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিলন। রবিবার শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হঠাৎ হাজির হন তৃণমূল নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। দুজনে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে সাক্ষাৎ করেন, যা দীর্ঘদিনের দূরত্বের পর এক নতুন সম্পর্কের সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি ডোমজুড়ের বিধায়ক হিসেবে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন, কিন্তু পরাজিত হন। নির্বাচনের পর তিনি পুনরায় তৃণমূলে ফিরে আসেন। তবে তাঁর এই দলবদলের জেরে শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে ফাটল ধরে। রাজীবের ‘ঘর ওয়াপসি’ হলেও ‘দাদা-ভাই’-এর মধ্যে দূরত্ব কমেনি। এমনকি, রাজীবের তৃণমূলে ফেরার পর ডোমজুড়ে দলের একাংশের কর্মীদের মধ্যে বিক্ষোভ দেখা যায়। কল্যাণও একাধিকবার রাজীবের প্রত্যাবর্তন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎ না রাজনৈতিক সমঝোতা?
রবিবার কল্যাণের বাড়িতে রাজীবের আগমনের পর দুজনেই এটিকে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে বর্ণনা করেছেন। কল্যাণ জানান, “রাজীব আজ আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। বলল, ‘দাদা, ভুল হয়েছে। ক্ষমা করো।’” অন্যদিকে, রাজীব বলেন, “দাদার অভিমান হয়েছিল। শ্রীরামপুরে এসেছিলাম, তাই সৌজন্য সাক্ষাৎ করলাম।” রাজীবের সঙ্গে ছিলেন হুগলির প্রাক্তন বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল, যিনি সম্প্রতি বিজেপি থেকে তৃণমূলে ফিরেছেন।
২০২১-এর নির্বাচনের আগে রাজীব ও প্রবীর-সহ বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ভোটে হেরে দুজনেই তৃণমূলে ফিরে আসেন। তবে রাজীবের প্রত্যাবর্তন সহজে মেনে নেয়নি দলের একাংশ। ডোমজুড়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-পোস্টারিং হয়। এমন পরিস্থিতিতে দল তাঁকে ত্রিপুরায় দায়িত্ব দিয়ে পাঠায়। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনেও কল্যাণ ও রাজীবকে একসঙ্গে কোনো মঞ্চে দেখা যায়নি। শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ডোমজুড় বিধানসভার বর্তমান বিধায়ক কল্যাণ ঘোষের অনুগামীরাও রাজীবের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন।
সম্পর্কের বরফ গলল, কী ইঙ্গিত?
দীর্ঘ সময় পর রাজীব ও কল্যাণের এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি করেছে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে কি নতুন মোড় আসছে? রাজীবের দলে ফেরা নিয়ে কল্যাণের অসন্তোষ সত্ত্বেও এই মিলন কি দলের ঐক্যের বার্তা দিচ্ছে? নাকি এটি কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্কের সংশোধন? রাজীবের সঙ্গে প্রবীর ঘোষালের উপস্থিতি এই সাক্ষাতের রাজনৈতিক তাৎপর্যকে আরও জোরালো করছে।
তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বও চাইছেন অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ২০২৬-এর নির্বাচনে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে। রাজীব ও কল্যাণের এই মিলনকে অনেকে সেই দিকেই ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে এর পেছনে দলীয় কৌশল না ব্যক্তিগত সমঝোতা, তা সময়ই বলবে।