২০১৭ সালে পাহাড়ে SI খুনে গ্রেফতার প্রাক্তন গুরুং অনুগামী, চাঞ্চল্য ঘটনায়

২০১৭ সালে দার্জিলিংয়ে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের উত্তপ্ত সময়ে পুলিশের রেডের সময় বিমল গুরুংয়ের অনুগামীদের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন সাব-ইন্সপেক্টর অমিতাভ মালিক। সেই চাঞ্চল্যকর মামলায় ৮ বছর পর গ্রেফতার করা হল প্রকাশ গুরুংকে। প্রকাশ গুরুং একসময় বিমল গুরুংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হলেও বর্তমানে তিনি অজয় এডওয়ার্ডের নেতৃত্বাধীন নতুন রাজনৈতিক দল ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্টে (IGJF) যোগ দিয়েছেন। রবিবার তাঁকে দার্জিলিং আদালতে পেশ করা হয়েছে।
প্রকাশ গুরুংয়ের বিরুদ্ধে আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। শনিবার তাঁর জামিনের আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয় এবং তাঁকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে নেওয়া হয়। এই মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এ পর্যন্ত আরও ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে, যাদের জামিন মঞ্জুর করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। তবে একই মামলায় গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার (GJM) প্রধান বিমল গুরুংয়ের আগাম জামিনের আবেদন গত জানুয়ারিতে মঞ্জুর হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি:
২০১৭ সালে গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা জিটিএ প্রত্যাখ্যান করে সর্বাত্মক ও হিংসাত্মক আন্দোলন শুরু করে। এর ফলে দার্জিলিং পাহাড়ে জনজীবন স্তব্ধ হয়ে পড়ে। ১০৪ দিনের অবরোধ এবং হিংসার ঘটনায় পাহাড়ে অশান্তি চরমে ওঠে। এই সময়ে বিমল গুরুং পাহাড় ছেড়ে পলাতক ছিলেন। ২০১৭ সালের ১৩ অক্টোবর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ বিমল গুরুংকে গ্রেফতার করতে দার্জিলিং সদর থানা এলাকার একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালায়। এই অভিযানে গুরুংয়ের সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের গুলি বিনিময় হয়।
ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় দার্জিলিং সদর থানায় কর্মরত সাব-ইন্সপেক্টর অমিতাভ মালিকের। মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা অমিতাভ মালিকের মৃত্যুর পর রাজ্য সরকার কঠোর হাতে আন্দোলন দমন করে। পুলিশের তরফে দায়ের করা এফআইআরে বিমল গুরুংকে মূল অভিযুক্ত করা হয়। প্রকাশ গুরুং সহ আরও কয়েকজন মোর্চা নেতার নামও অভিযুক্তের তালিকায় ছিল। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছিল।
গ্রেফতারি ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
প্রকাশ গুরুং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ছেড়ে সম্প্রতি অজয় এডওয়ার্ডের নতুন দলে যোগ দিয়েছেন। তবে তাঁর এই গ্রেফতারির সময়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই গ্রেফতারির পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি থাকতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। প্রকাশের সমর্থকদের একাংশ দাবি করেছেন, এটি তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা।
অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রকাশের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা অনেক আগেই জারি হয়েছিল। দীর্ঘদিন তিনি পলাতক থাকলেও সম্প্রতি তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। রবিবার দার্জিলিং আদালতে পেশের পর তাঁর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
পরিবার ও সমাজের প্রতিক্রিয়া:
অমিতাভ মালিকের পরিবার এই গ্রেফতারিকে স্বাগত জানালেও বিমল গুরুংয়ের জামিন নিয়ে তাঁদের ক্ষোভ রয়েছে। অমিতাভের বাবা তপন মালিক ২০২০ সালে বলেছিলেন, “আমার ছেলের হত্যাকারী মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি বিমল গুরুংয়ের ‘এনকাউন্টার’র দাবিও তুলেছিলেন।
এই গ্রেফতারির মধ্য দিয়ে ২০১৭ সালের হিংসাত্মক ঘটনার একটি অধ্যায় আবার সামনে এসেছে। দার্জিলিংয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। প্রকাশ গুরুংয়ের গ্রেফতারি এবং বিমল গুরুংয়ের জামিনের পরবর্তী পরিণতি কী হবে, সেদিকে নজর রাখছে সবাই।