বিশেষ: দোলপূর্ণিমা ঠিক কখন পড়ছে? জেনে নিন পুজোর শুভ সময় ও তিথি সম্পর্কিত সব তথ্য

পঞ্জিকা মেনে আর কয়েক দিন পরই আসছে ২০২৫ সালের দোল ও হোলি উৎসব। ফাল্গুনী পূর্ণিমার এই বসন্তোৎসব বাঙালিদের কাছে দোলযাত্রা এবং সারা ভারতে হোলি নামে পরিচিত। এই শুভ তিথিতে অনেক বাড়িতে বিষ্ণু দেবতা বা নারায়ণের বিশেষ পুজো এবং সত্যনারায়ণ পুজোর আয়োজন করা হয়। এছাড়া, দোলপূর্ণিমা শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার প্রেমলীলার স্মরণে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবছর দোল উৎসব পালিত হবে ১৪ মার্চ, শুক্রবার। আসুন জেনে নিই পূর্ণিমা তিথির সময়সূচি ও এই উৎসবের বিশেষত্ব।
দোল ও হোলির তাৎপর্য
দোলযাত্রা প্রধানত বৈষ্ণব ধর্মীয় উৎসব হলেও, সকল সম্প্রদায়ের মানুষ এতে মেতে ওঠেন। বিশেষ করে ব্রজধাম—মথুরা, বৃন্দাবন, গোকুল, নন্দগাঁও, গোবর্ধন এবং বরসানায় এই উৎসব অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ। পঞ্জিকা অনুসারে, ফাল্গুনী পূর্ণিমায় শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধিকা ও গোপিনীদের সঙ্গে আবির খেলায় মেতেছিলেন। এই ঐতিহ্য ধরে বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার বিগ্রহ নিয়ে শোভাযাত্রা বের হয় এবং বৈষ্ণবরা আবিরে রঙিন হয়ে ওঠেন। এই দিনটি শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মতিথি হিসেবেও পালিত হয়। উৎসবের সূচনা হয় তার আগের দিন হোলিকা দহন বা নেড়াপোড়ার মাধ্যমে।
পূর্ণিমা তিথির সময়সূচি
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে:
পূর্ণিমা তিথি আরম্ভ: ১৩ মার্চ, বৃহস্পতিবার, সকাল ১০টা ৩৭ মিনিট (২৯ ফাল্গুন)
পূর্ণিমা তিথি শেষ: ১৪ মার্চ, শুক্রবার, বেলা ১২টা ২৫ মিনিট (৩০ ফাল্গুন)
গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুসারে:
পূর্ণিমা তিথি আরম্ভ: ১৩ মার্চ, বৃহস্পতিবার, সকাল ১০টা ২২ মিনিট ২৩ সেকেন্ড (২৮ ফাল্গুন)
পূর্ণিমা তিথি শেষ: ১৪ মার্চ, শুক্রবার, সকাল ১১টা ৩৩ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড (২৯ ফাল্গুন)
পুজোর সময়: উদয়া তিথি অনুসারে, পূর্ণিমা পালিত হবে ১৪ মার্চ, শুক্রবার। এই দিন ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে ১৩ মার্চ সকাল ১০টা ৩৫ মিনিট থেকে এবং চলবে ১৪ মার্চ বেলা ১২টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত। তাই সত্যনারায়ণ পুজো বা বিষ্ণু পুজোর জন্য ১৪ মার্চ শুভ দিন হিসেবে গণ্য হবে।
হোলিকা দহনের সময়
হোলির আগের দিন, অর্থাৎ ১৩ মার্চ, বৃহস্পতিবার, হোলিকা দহন বা নেড়াপোড়া পালিত হবে। শাস্ত্রমতে, শুভ সময় হবে রাত ১১টা ২৬ মিনিট থেকে ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। মোট সময় থাকবে ১ ঘণ্টা ৪ মিনিট।
দোল ও চন্দ্রগ্রহণ
১৪ মার্চ শুক্রবার বাঙালিদের দোল এবং অবাঙালিদের হোলি একই দিনে পালিত হবে। এই দিনই ২০২৫ সালের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে। তবে ভারত থেকে এই গ্রহণ দৃশ্যমান হবে না। ফলে গ্রহণের সূতক বা অন্যান্য প্রভাব এদেশে পড়বে না। ফলে কোনও বাধা ছাড়াই দোল উৎসব উদযাপিত হবে।
উৎসবের প্রস্তুতি
দোলপূর্ণিমায় রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলার স্মরণে শোভাযাত্রা, আবির খেলা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই উৎসব পালিত হবে। বাংলার গ্রামে-শহরে এই দিনে রঙের উৎসবের পাশাপাশি পঞ্জিকা মেনে পুজোর আয়োজনও জোরকদমে শুরু হয়েছে। ১৩ মার্চ নেড়াপোড়ার পর ১৪ মার্চ রঙিন আবিরে মেতে উঠবে গোটা দেশ।