ট্যুরিস্ট গাইড কোর্স, নয়া উদ্যোগ নিলো রাজ্য সরকার, জেনেনিন কোর্সের খুঁটি -নাটি সম্পর্কে

দেশি পর্যটকদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভারতে অষ্টম স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের নিরিখে রাজ্যের অবস্থান আরও উঁচুতে, তৃতীয়। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পর্যটকদের আরও উন্নত পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে রাজ্য পর্যটন দপ্তর চালু করেছে ট্যুরিস্ট গাইড কোর্স। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কলেজে সার্টিফিকেট কোর্স শুরু করা হয়েছে।
শনিবার পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের বনোয়ারিলাল ভালোটিয়া কলেজে (বিবি কলেজ) এই কোর্সের সূচনা হয়েছে। প্রথম ধাপে এই কোর্সে যোগ দিয়েছেন ৭১ জন পড়ুয়া। জেলা পর্যটন দপ্তরের কর্মকর্তা সুদীপ দাস জানিয়েছেন, “আগ্রহী যুবক-যুবতীদের জন্য প্রথমে বেসিক ট্যুরিস্ট গাইড কোর্স চালু করা হয়েছে। এরপর অ্যাডভান্স কোর্সও চালু হবে। প্রতিটি কোর্সের সময়সীমা ২১০ ঘণ্টা। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে পড়ুয়াদের সরকারি উদ্যোগে একটি পর্যটন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে।”
কোর্স শেষে পর্যটন দপ্তরের তরফে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। সঙ্গে দেওয়া হবে একটি ব্লেজার, টুপি এবং হুইসল। এছাড়া, পর্যটন দপ্তরের পোর্টালে সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত গাইডদের নাম ও মোবাইল নম্বর তালিকাভুক্ত থাকবে, যাতে পর্যটকরা সহজেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
সুদীপ দাস আরও বলেন, “এই কোর্স শেষ করে যাঁরা তিন বছর কাজ করবেন, তাঁদের জন্য ভেটারেন্স ট্যুরিস্ট গাইড কোর্সও চালু থাকবে। প্রতিটি ধাপে সরকারি সহযোগিতা থাকবে। কোর্স সম্পূর্ণ করার পর বিভিন্ন পর্যটন সংস্থায় কাজের সুযোগও মিলবে।” বেসিক কোর্সে অংশ নিতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক পাশ, আর অ্যাডভান্স কোর্সের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক পাশ হতে হবে।
বিবি কলেজের অধ্যক্ষ অমিতাভ বসু বলেন, “জেলায় প্রথম আমাদের কলেজকে এই কোর্সের জন্য বেছে নিয়েছে পর্যটন দপ্তর। আশ্চর্যজনকভাবে, কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যাই বেশি। আমাদের জেলায় দুর্গাপুর, শান্তিনিকেতনের মতো একাধিক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। শিক্ষিত গাইডরা এখানে কাজের সুযোগ পাবেন এবং পর্যটকদের কাছে এলাকার ইতিহাস ও তথ্য আরও ভালোভাবে তুলে ধরতে পারবেন।”
পশ্চিমবঙ্গে পর্যটন শিল্পের ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এই কোর্স শুধু যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের পথ খুলবে না, বরং রাজ্যের পর্যটনকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।