“ভোটার তালিকার মধ্যেই ‘ভূত’”-বাংলার জেলায় জেলায় ‘ভুয়ো’ ভোটারের ছড়াছড়ি

একই এপিক নম্বরে একাধিক ভোটার কার্ড থাকার অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অভিযোগকে স্বীকার করে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো সমস্ত জেলার নেতৃত্বকে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। যাচাই প্রক্রিয়া চলাকালীনই রাজ্যের একাধিক জেলায় ‘ভূতুড়ে ভোটার’-এর সন্ধান মিলছে।

অভিযোগ উঠেছে, বেশ কয়েকটি জেলায় জীবিত ব্যক্তিদের ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বহু ক্ষেত্রে। আবার এর উল্টো চিত্রও দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া ব্লকের হুমাইপুর অঞ্চলের প্রদীপডাঙা এলাকায় পরিদর্শনে গিয়ে এমনই একটি সমস্যা ধরা পড়ে হরিহরপাড়ার বিধায়ক নিয়ামত শেখের চোখে। রফিকুল শেখ নামে এক ব্যক্তি কর্মসূত্রে অন্য রাজ্যে গেলেও তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলার অভিযোগ ওঠে। একইভাবে, মুর্শিদাবাদের জলঙ্গির বাসিন্দা নাসির বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও ঘটেছে অনুরূপ ঘটনা।

অন্যদিকে, মালদায় দেখা গেছে উল্টো চিত্র। মৃত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকায় রয়ে গেছে। মালদার হবিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কেন্দুয়া গ্রামের ২৩৪ নম্বর বুথে পাঁচজন মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় পাওয়া গেছে। দীপক সাহা, দেবাশিস তামূলী, মিঠুন দাস, যামুতি রায় এবং পরিতোষ পাল—এঁরা সকলেই মৃত। পরিবারের সদস্যরা মৃত্যু শংসাপত্রও দেখিয়েছেন। তবুও তাঁদের নাম তালিকায় রয়ে গেছে। এমনকী, ওই বুথেরই লিলি সাহা নামে এক মহিলা ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ, তাঁর নামও তালিকায় উপস্থিত।

পূর্ব বর্ধমানে ভোটার তালিকা যাচাই করতে গিয়ে পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় লক্ষ্য করেন, এক বাংলাদেশি নাগরিকের নাম তালিকায় রয়েছে। ওই ব্যক্তির নাম ভৃগুরাম দাস। তাঁর স্ত্রী ও পরিবার এ রাজ্যে বসবাস করেন এবং তাঁদের নামও তালিকায় রয়েছে। বিধায়ক জানান, “ভৃগুরাম দাস-সহ আরও অনেক বাংলাদেশি নাগরিকের নাম তালিকায় উঠে এসেছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।” কালনার মহকুমা শাসক বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। বৈধ কাগজপত্র না থাকলে নাম বাদ দেওয়া হবে।”

এই ঘটনার মধ্যেই নির্বাচন কমিশন শুক্রবার বিকেলে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, ভোটার কার্ডের জন্য একটি ‘ইউনিক আইডি’ তৈরি করা হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে ‘ডুপ্লিকেট’ এপিক সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

ভোটার তালিকার এই অনিয়ম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস তালিকা যাচাইয়ে আরও জোর দিয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানে নির্বাচন কমিশন কতটা সফল হয়, সেদিকে নজর রয়েছে সকলের।