আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সূচনা: কারা ছিলেন এর নেপথ্যে? জানুন ইতিহাস

প্রতি বছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস (International Women’s Day) পালিত হয়। এই দিনটি বিশ্বজুড়ে নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক অর্জনকে সম্মান জানানোর জন্য উদযাপিত হয়। কিন্তু কীভাবে শুরু হয়েছিল এই বিশেষ দিনের উদযাপন? এর পেছনের ইতিহাস জানলে বোঝা যাবে, কীভাবে শ্রমিক আন্দোলন থেকে জন্ম নিয়েছে এই দিনটি।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ধারণার সূচনা হয়েছিল প্রায় এক শতাব্দী আগে। ১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার সোশ্যালিস্ট পার্টি প্রথম জাতীয় নারী দিবস পালন করে। এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বস্ত্র শিল্পে নারী শ্রমিকদের অধিকার ও সম্মানের কথা স্মরণ করে। থেরেসা মালকিয়েল এই দিনটির প্রস্তাব করেছিলেন। এরপর জার্মান সরকারও নারী দিবস পালনের কথা উল্লেখ করে, যদিও তখনও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করা হয়নি।

১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলনে ক্লারা জেটকিন নামের একজন জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেতা আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের প্রস্তাব দেন। তাঁর এই প্রস্তাব সম্মেলনে উপস্থিত ১৭টি দেশের ১০০ জন নারী প্রতিনিধি সমর্থন করেন। এর মধ্যে ফিনল্যান্ডের প্রথম তিন নারী সংসদ সদস্যও ছিলেন।

১৯১৩ সালে ৮ মার্চকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে এই দিনটির পেছনে রয়েছে রুশ বিপ্লবের ইতিহাস। ১৯১৭ সালে রুশ নারীরা ‘রুটি এবং শান্তি’-র দাবিতে তৎকালীন জার (রাশিয়ার সম্রাট) নিকোলাস দ্বিতীয়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট শুরু করেন। এই ধর্মঘটের চার দিন পর জার পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং অস্থায়ী সরকার নারীদের ভোটাধিকার প্রদান করে। রাশিয়ায় তখন জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই ধর্মঘট শুরু হয়েছিল ২৩ ফেব্রুয়ারি, যা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে ৮ মার্চ। পরবর্তীতে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৮ মার্চকেই আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করে। এরপর ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ৮ মার্চকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রথম থিম ছিল ‘অতীতের উদযাপন ও ভবিষ্যতের প্রস্তুতি’। এরপর থেকে প্রতি বছর এই দিনটি একটি বিশেষ থিম নিয়ে উদযাপিত হয়। ২০২৩ সালের থিম হলো ‘অ্যাক্সিলারেট অ্যাকশন’ (Accelerate action), যা নারীদের ক্ষমতায়ন ও সমতা অর্জনের গতি বাড়ানোর উপর জোর দেয়।

এই দিনটি শুধুমাত্র নারীদের অর্জনকে স্মরণ করার জন্য নয়, বরং নারীদের অধিকার, সমতা এবং ক্ষমতায়নের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধিরও একটি সুযোগ। ক্লারা জেটকিন, থেরেসা মালকিয়েল এবং রুশ বিপ্লবে অংশ নেওয়া নারীদের মতো অসংখ্য নেতৃত্বের কারণে আজ আমরা এই দিনটি উদযাপন করতে পারছি।