নাতনির যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দাদুর ছিন্নভিন্ন দেহ রেল লাইনের ধারে, বারাসতে চাঞ্চল্য

বারাসতে ৯ বছরের নাতনিকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত দাদুর ছিন্নভিন্ন দেহ উদ্ধার করা হয়েছে রেল লাইনের ধারে। মৃত ব্যক্তির নাম নিরঞ্জন সাহা, যিনি বারাসত পুরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের মালির বাগান এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বারাসত স্টেশন সংলগ্ন রেল লাইনের ধারে তার দেহ উদ্ধার করে রেল পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, লজ্জা ও অপমান থেকে মুক্তি পেতে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছিল বুধবার। নিরঞ্জনের ৯ বছরের নাতনি অভিযোগ করে যে, দাদু তাকে যৌন নির্যাতন করেছে। ঘটনার সময় নিরঞ্জনের স্ত্রী ও ছেলে-বউ কাজের সূত্রে বাড়ির বাইরে ছিলেন। নাতনি দাদুর কাছেই ছিল। ফাঁকা বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। নাতনির মা বাড়ি ফিরে মেয়ের কাছ থেকে ঘটনার কথা জানতে পেরে রাতেই বারাসত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের পর থেকেই নিরঞ্জন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। পুলিশ তল্লাশি চালিয়েও তাকে খুঁজে পায়নি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রেল পুলিশের কাছে খবর আসে যে, বারাসত স্টেশন সংলগ্ন রেল লাইনের ধারে একটি ছিন্নভিন্ন দেহ পড়ে আছে। দেহের পোশাক দেখে পুলিশ বুঝতে পারে যে, এটি নিরঞ্জন সাহার দেহ। পরে মর্গে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা দেহটি শনাক্ত করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিরঞ্জন পেশায় একজন হকার ছিলেন। তিনি বারাসত শহরে ঘুরে ঘুরে ঘুগনি ও পাউরুটি বিক্রি করতেন। প্রতিবেশীদের মতে, লজ্জা ও অপমান থেকে মুক্তি পেতে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে এই বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এই ঘটনায় বারাসত শহরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ এখন ঘটনাটির তদন্ত করছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয়রা শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, এবং নাবালিকাদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এই ঘটনা নিয়ে পুলিশের তদন্ত চলছে, এবং অভিযুক্তের আত্মহত্যার কারণ ও ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন দেখার, এই ঘটনার পর কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং নাবালিকাদের সুরক্ষা নিয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।