মুম্বই হামলার চক্রী তাহাউর রানার আর্জি খারিজ, মার্কিন আদালতের রায়: ভারতে ফেরত যেতে হবে

মুম্বই হামলার মূল চক্রী তাহাউর রানাকে ভারতে প্রত্যর্পণের বিষয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি সত্ত্বেও, রানা আদালতে আর্জি জানিয়েছিল তার প্রত্যর্পণ স্থগিত করার জন্য। কিন্তু শুক্রবার আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের নবনম সার্কিটের বিচারপতি রানার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে, রানাকে এখন ভারতে ফেরত পাঠানো হবে।

২০০৮ সালের মুম্বই সন্ত্রাসী হামলার মামলায় পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক তাহাউর রানার যোগসূত্র খুঁজে পায় ভারত। এরপর থেকে তাকে ভারতে আনার চেষ্টা চলছিল। গত জানুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রানাকে ভারতে প্রত্যর্পণের অনুমতি দেয়। এরপর ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, রানাকে ভারতে হস্তান্তর করা হবে।

তবে রানা তার প্রত্যর্পণ স্থগিত করার জন্য মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানায়। তিনি দাবি করেন, যেহেতু তিনি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত একজন মুসলিম এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সদস্য, তাই ভারতে তাকে নির্যাতন করা হতে পারে। এছাড়াও, তিনি অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজম, পারকিনসন রোগ এবং সম্ভাব্য মূত্রাশয় ক্যানসারে ভুগছেন, যা তার জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

কিন্তু মার্কিন আদালত রানার এই দাবি মানতে রাজি হয়নি। আদালতের রায় অনুযায়ী, রানাকে এখন ভারতে ফেরত পাঠানো হবে। বর্তমানে ৬৪ বছর বয়সী রানা লস অ্যাঞ্জেলেসের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন।

এই রায় ভারতের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুম্বই হামলার মতো ভয়াবহ সন্ত্রাসী ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য ভারত দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এবার তাহাউর রানার প্রত্যর্পণ সেই দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

মুম্বই হামলায় ১৬৬ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। এই হামলার পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে ভারত আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এবার রানার প্রত্যর্পণ সেই প্রচেষ্টারই একটি অংশ। এখন দেখার, ভারতে ফেরার পর রানার বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং এই মামলার চূড়ান্ত পরিণতি কী হয়।