“১২ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ”-পোস্টমাস্টারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে গেলো পাল পরিবার

পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে পোস্টমাস্টারের বিরুদ্ধে ১২ লক্ষ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী সুরজিৎ পাল নামে এক আমানতকারী দাবি করেছেন, পোস্ট অফিসে জমা দেওয়া তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সঞ্চয়ের টাকা পোস্টমাস্টার জাল নথি তৈরি করে আত্মসাৎ করেছেন। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়, এবং বিষয়টি এখন হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে।

সুরজিৎ পাল জানিয়েছেন, ২০২১ সালে তিনি জামালপুর পোস্ট অফিসে সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলে প্রথমে ২ লক্ষ টাকা জমা দেন। এরপর আরেকটি অ্যাকাউন্টে ১ লক্ষ টাকা জমা করেন। পোস্ট অফিস থেকে তাঁকে দুটি পাসবইও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁর বোন এবং মাও একই পোস্ট অফিসে অ্যাকাউন্ট খোলেন এবং সেখানে টাকা জমা করেন। সব মিলিয়ে তাঁদের পরিবারের তিনটি অ্যাকাউন্টে মোট ১২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা জমা হয়েছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু সম্প্রতি মায়ের চিকিৎসার জন্য টাকা তুলতে গেলে পোস্ট অফিস থেকে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে জানা যায়, তাঁদের অ্যাকাউন্টে কোনও টাকাই জমা পড়েনি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, পোস্টমাস্টার আমানতকারীদের টাকা পোস্ট অফিসের অ্যাকাউন্টে জমা না করে সেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন। জাল নথিপত্র তৈরি করে এই প্রতারণা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সুরজিৎ। তিনি জানান, “আমরা কষ্ট করে টাকা জমিয়েছিলাম। মায়ের চিকিৎসার জন্য এখন টাকার দরকার, কিন্তু পোস্টমাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ রাখা হয়েছে।”

ঘটনার পর সুরজিৎ প্রথমে জামালপুর থানা এবং জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানান। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি বর্ধমানের সিজিএম আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত জামালপুর থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দিলেও কোনও সুরাহা না হওয়ায় অবশেষে পাল পরিবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।

সরকারি সংস্থায় এমন প্রতারণার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সুরজিৎ বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম পোস্ট অফিসে টাকা নিরাপদ থাকবে। কিন্তু এভাবে টাকা গায়েব হয়ে যাবে, তা কল্পনাও করিনি। এখন চিকিৎসার জন্য টাকা কীভাবে জোগাড় করব, বুঝতে পারছি না।”

বর্তমানে পোস্টমাস্টারের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও টাকা আত্মসাতের মামলা রুজু করা হয়েছে। হাইকোর্টে মামলার শুনানি শুরু হওয়ায় এই ঘটনার তদন্তে গতি আসতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে এই ঘটনা পোস্ট অফিসের উপর আমানতকারীদের ভরসা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।