“ভোটের দিন এসে ভোট দিয়ে যাচ্ছে…!”- মুখ্যমন্ত্রী মমতার এলাকাতেই ১৫০ জন ভুয়ো ভোটার?

ভুয়ো ভোটার বা ভূতুড়ে ভোটার ইস্যুতে বারবার সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এবার তাঁর নিজের ওয়ার্ডেই ধরা পড়ল ভুয়ো ভোটারের অস্তিত্ব! বৃহস্পতিবার সকালে এমন চাঞ্চল্যকর খবর সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল।

জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রীর ভবানীপুরের ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে একটি দল। এই দলে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তালিকা পরীক্ষার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাজরী জানান, “আমাদের এখানে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, ধরুন ১৫০-২০০ জনের মতো, যারা এখানে বসবাস করেন না। তাঁদের বাড়ি বিক্রি হয়ে গেছে, কিন্তু ভোটার তালিকায় নাম রয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, ভোটের দিন এসে তারা ভোটও দিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের ধারণা, এটা মূলত বিজেপি বা অন্য কোনও বিরোধী দলের কাজ। তারা এই ভুয়ো ভোটারদের তালিকায় ঢুকিয়ে রেখেছে এবং ভোটের দিন ব্যবহার করছে।”

এর আগে গত বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে একটি অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভুয়ো ভোটার ইস্যুতে সুর চড়িয়েছিলেন। তিনি তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুব্রত বক্সীকে দায়িত্ব দিয়ে জেলায় জেলায় ‘কোর কমিটি’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন এই সমস্যা খুঁজে বের করতে। সেই নির্দেশ মতো তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজ শুরু করে। এর ফলেই বিভিন্ন জেলা থেকে একের পর এক ভুয়ো ভোটারের নাম সামনে আসতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত রবিবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) জানিয়েছিল, একই এপিক নম্বর থাকলেই তাকে ভুয়ো ভোটার কার্ড বলা যায় না। তবে কমিশনের এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ তৃণমূল। দলের নেতারা দাবি করছেন, এই ভুয়ো ভোটারদের মাধ্যমে বিরোধীরা নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা করছে।

মুখ্যমন্ত্রীর নিজের ওয়ার্ডে ভুয়ো ভোটারের অস্তিত্ব প্রকাশ্যে আসায় রাজ্যের শাসক দলের অস্বস্তি বাড়ছে। একই সঙ্গে এই ঘটনা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আগামী দিনে এই ইস্যুতে রাজনৈতিক তরজা আরও চড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।