BigNews: লন্ডনে জয়শঙ্করের ওপর হামলার চেষ্টা, ছেঁড়া হলো ভারতের পতাকাও

যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। লন্ডনের চ্যাথাম হাউসের সামনে খলিস্তানপন্থি বিক্ষোভকারীরা তার গাড়ির কাছে পৌঁছে হামলার চেষ্টা চালান। এ সময় ভারতের জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।

বুধবার রাতে লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে একটি আলোচনা সভায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন জয়শঙ্কর। সভা শেষে তিনি বের হওয়ার সময় খলিস্তানপন্থি বিক্ষোভকারীদের ভিড় থেকে এক ব্যক্তি হঠাৎ তার গাড়ির সামনে পৌঁছে যান এবং ভারতের জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় আরও কয়েকজন বিক্ষোভকারী ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কনভয়ের কাছে এসে স্লোগান দিতে শুরু করেন। পুলিশ কিছুক্ষণ দ্বিধাগ্রস্ত থাকলেও পরে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে নেয়।

এই হামলার নেপথ্যে খলিস্তানপন্থি নেতা গুরপতবন্ত সিং পন্নুনের সংগঠন ‘শিখস ফর জাস্টিস’ (এসএফজে) রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। অতীতে এই সংগঠনের সদস্যরা ব্রিটেনে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দুরাইস্বামীর ওপর স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় হামলা চালিয়েছিল। এছাড়া লন্ডনের ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ ও হামলার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে এসএফজের বিরুদ্ধে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনায় জয়শঙ্করের নিরাপত্তায় গাফিলতির কথা উল্লেখ করেছেন। তারা বলছেন, বিদেশ সফরে গিয়ে ভারতীয় নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বুধবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। দু’দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, জনগণের মধ্যে আদান-প্রদান বাড়ানো এবং ইউক্রেনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

খলিস্তান আন্দোলন কী?
খলিস্তান আন্দোলন মূলত ভারতের শিখদের আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবিতে গড়ে ওঠা একটি আন্দোলন। ১৯৮০-র দশকে ভারতের পাঞ্জাবে এই আন্দোলন উত্তাল হয়ে উঠেছিল। সেই সময় অনেক সহিংসতার ঘটনা ঘটে এবং হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযানের পর আন্দোলন স্তিমিত হলেও বিদেশে অভিবাসী শিখদের একটি অংশ আলাদা রাষ্ট্রের দাবিতে তাদের প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই আন্দোলন কিছুটা জোরদার হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে প্রায় আড়াই কোটি শিখ ধর্মাবলম্বী রয়েছেন। ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২.৫ শতাংশ শিখ। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিখ অভিবাসী রয়েছেন।

এই ঘটনায় ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হতে পারে। ভারত সরকার ইতিমধ্যে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে এই ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ওপর হামলার চেষ্টা এবং ভারতীয় পতাকা অপমানের ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনায় খলিস্তানপন্থিদের ভূমিকা স্পষ্ট হওয়ায় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাজ্য কীভাবে এই ঘটনার তদন্ত করে এবং ভবিষ্যতে ভারতীয় নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেয়।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, এএনআই