ডেডলাইন পার, তৃণমূলের বড় তথ্য ফাঁস! কমিশনের বিরুদ্ধে ‘এপিক বিতর্কে’ জোরালো অভিযোগ

গত সপ্তাহ থেকে রাজ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে ভুয়ো ভোটার নিয়ে। একই এপিক নম্বর ব্যবহার করে দু’জন ভোটার—একজন বাংলায়, অন্যজন হরিয়ানায়। এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূলের মহাসমাবেশে তিনি ভুয়ো ভোটার নিয়ে একাধিক তথ্য তুলে ধরেন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ তোলেন।

এই বিতর্কের আঁচ পৌঁছেছে রাজধানীতেও। নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, একই এপিক নম্বর দু’টি রাজ্যে থাকলেই তা ভুয়ো নয়। তাদের যুক্তি, ভোটার কার্ড তৈরির প্রক্রিয়া বিকেন্দ্রিক এবং ম্যানুয়াল হওয়ায় এমন ভুল হওয়া সম্ভব। তবে, তারা এই ভুল সংশোধনের উদ্যোগ নেবে বলেও জানায়।

কিন্তু তৃণমূল এই যুক্তি মানতে নারাজ। সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল সাংসদরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় অভিযোগ তোলেন। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিশন ভুল স্বীকার না করলে আরও তথ্য ফাঁস করার হুঁশিয়ারি দেন।

২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই মঙ্গলবার সকালে তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ সাখেত গোখলে এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে কমিশনের দাবিকে নস্যাৎ করেন। তিনি জানান, এপিক নম্বর প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের নাম এবং ভোটারের পরিচয়ের ভিত্তিতে তৈরি হয়। অর্থাৎ, দু’টি ভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে একই এপিক নম্বর থাকা অসম্ভব।

গোখলে আরও বলেন, ছবি আলাদা থাকলেও এপিক নম্বর একই হলে তা ভোটারকে ভোটদান থেকে বঞ্চিত করার জন্য যথেষ্ট। তিনি অভিযোগ করেন, “যদি কোনো ভোটার বিজেপি-বিরোধী হন এবং অফিসাররা তা জানেন, তাহলে তারা সহজেই এপিক নম্বরের অজুহাতে ভোট বাতিল করে দিতে পারেন।”

এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ আরও বেড়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নীতিতে ভুয়ো ভোটার তৈরির সুযোগ রয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।