বাবার মুখাগ্নি সেরেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসল ছেলে, দুঃখজনক ঘটনায় শোক সকলের

জীবনে বাধা যতই আসুক, থেমে থাকা যাবে না—এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে বাবার মৃত্যুর পর মুখাগ্নি করে সোজা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার হলে বসেছে স্বর্ণাভ চট্টোপাধ্যায়। শোকের ছায়া মনকে ভারী করলেও, পড়াশোনার প্রতি অটুট মনোযোগ ও জীবনযুদ্ধে এগিয়ে চলার প্রতিজ্ঞা নিয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করেছে এই তরুণ।
পরীক্ষা শুরুর মাত্র দুদিন আগে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন পূর্ব বর্ধমান জেলার মন্তেশ্বরের বাসিন্দা মলয় চট্টোপাধ্যায়। পরিবারের ওপর নেমে আসে শোকের অন্ধকার। কিন্তু সেই শোককে পাশে রেখে বাবার স্বপ্নপূরণের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে তাঁর ছেলে স্বর্ণাভ। এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সে। এমন কঠিন সময়েও মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে, পরীক্ষার হলে বসে নিজের কর্তব্য পালন করে সে সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মন্তেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা স্বর্ণাভ চট্টোপাধ্যায় মন্তেশ্বর সাগর বালা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। তাঁর পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল মালডাঙা আর এম ইনস্টিটিউশন। বাবার মুখাগ্নি করার পরও পরীক্ষার প্রস্তুতি থেকে পিছপা না হয়ে সে ফিরে আসে নিজের লক্ষ্যে। বাবা মলয় চট্টোপাধ্যায় চাইতেন, স্বর্ণাভ ভালো ফল করে ভবিষ্যতে একটি সুনিশ্চিত কেরিয়ার গড়ে তুলুক। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সে। পরীক্ষার হলে তার চোখে জল থাকলেও, মন ছিল অটল।
পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে স্বর্ণাভ জানায়, “দুঃখ তো আছেই, কিন্তু বাবার ইচ্ছা ছিল আমি উচ্চমাধ্যমিকে ভালো রেজাল্ট করি। সেই কারণেই আমি পরীক্ষা দিতে এসেছি। বাবার স্বপ্ন পূরণ করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। তিনি সবসময় চাইতেন আমি জীবনে সফল হই। সেই ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতেই আমি আজ এই পরীক্ষার হলে বসেছি।”
একটি প্রেরণার উদাহরণ
স্বর্ণাভের এই ঘটনা কেবল তার মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেয় না, জীবনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কীভাবে লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকা যায়, তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। শোকের ভার বুকে নিয়েও দায়িত্ববোধের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সে সকলের কাছে প্রশংসার পাত্র হয়েছে। বাবা মলয় চট্টোপাধ্যায়ের স্বপ্নপূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ স্বর্ণাভ নিজের সাফল্যের মাধ্যমে বাবার স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করতে চায়।