বউ নয়, বন্ধুর গলায় মালা! চেয়ার ছোড়াছুড়িতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি! বিয়ের মণ্ডপই হয়ে গেল WWE রিং!

বিয়ের অনুষ্ঠান নাকি কুস্তির আখড়া! চেয়ার উড়ছে, টেবিল টানা হচ্ছে, মারপিট আর হাতাহাতিতে মণ্ডপ মাতামাতি। এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে উত্তর প্রদেশের বরৈলিতে। এক পাত্রের ভুলের কারণে বিয়ের আসর преврати হয়ে যায় গণ্ডগোলের ময়দানে। শেষে রাগ করে মণ্ডপ ছেড়ে চলে যান কনে, আর পাত্র হন হতভম্ব।

কী ঘটেছিল বিয়ের মণ্ডপে?
২৬ বছর বয়সী রবীন্দ্র কুমারের বিয়ে হচ্ছিল ২১ বছর বয়সী রাধার সঙ্গে। কিন্তু পণ নিয়ে শুরু থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে তিক্ততা চলছিল। পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিয়ের আগেই পাত্রপক্ষকে আড়াই লক্ষ টাকা পণ দিতে হয়েছিল। বিয়ের দিন আরও ২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরও পাত্রপক্ষের অতিরিক্ত পণের দাবি পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে।

মদ্যপান করে মণ্ডপে হাজির পাত্র
সন্ধ্যায় বিয়ের অনুষ্ঠানে পাত্র রবীন্দ্র মদ্যপান করে উপস্থিত হয়। মালাবদলের আগেই সে পাত্রীপক্ষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার শুরু করে। এরপর আসে সেই ঘটনা, যা পুরো অনুষ্ঠানকে তোলপাড় করে দেয়। মালা পরানোর সময় পাত্র কনের বদলে তাঁর পাশে দাঁড়ানো বান্ধবীর গলায় মালা পরিয়ে দেয়! এই ভুল দেখে কনে রাধা প্রচণ্ড রেগে যান এবং পাত্রকে চড় মেরে মণ্ডপ ছেড়ে চলে যান।

মণ্ডপে হাতাহাতি, চেয়ার-টেবিল উড়ছিল আকাশে
কনের চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। দুই পরিবারের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। একে অপরকে চেয়ার, টেবিল ছুড়ে মারার দৃশ্য দেখে অতিথিরা হতবাক। মারপিটে মণ্ডপ তছনছ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, কিন্তু ততক্ষণে বিয়ের আসর ভেঙে যায়।

পণের দাবি ও মদ্যপানই মূল কারণ
স্থানীয়রা জানান, পণ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দর কষাকষি এবং পাত্রের মদ্যপানই এই অপ্রীতিকর ঘটনার মূল কারণ। পাত্রপক্ষের অতিরিক্ত পণের দাবি এবং পাত্রের অসৌজন্যমূলক আচরণ পুরো অনুষ্ঠানকে নষ্ট করে দেয়।

শেষ পর্যন্ত কী হল?
পুলিশ হস্তক্ষেপ করলেও বিয়েটি আর সম্পন্ন হয়নি। কনে রাধা মণ্ডপ ছেড়ে চলে যান, আর পাত্র রবীন্দ্র হতভম্ব হয়ে পড়েন। এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পণপ্রথা এবং মদ্যপানের মতো সামাজিক সমস্যাগুলো আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

সবশেষে
বিয়ের মতো পবিত্র অনুষ্ঠানে এমন অশান্তি সত্যিই দুঃখজনক। পণপ্রথা এবং মদ্যপানের মতো কুপ্রথা সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কীভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলে, এই ঘটনা তারই উদাহরণ। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে সবাই সচেতন হবে এবং বিয়ের মতো শুভ অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।