কানাডায় খলিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডে আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে জোর বিতর্ক

কানাডায় খলিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল যে, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আমেরিকা কানাডাকে তথ্য সরবরাহ করে সাহায্য করেছিল। বলা হয়েছিল, আমেরিকা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দা জোট ‘ফাইভ আইজ পার্টনার্স’-এর মাধ্যমে কানাডা এই তথ্য পেয়েছে। তবে এই জোট থেকেই কানাডাকে বাদ দেওয়ার কথা বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা পিটার নাভারো। উল্লেখ্য, ‘ফাইভ আইজ’ জোটটি ১৯৪১ সালে গঠিত হয়েছিল এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী গোয়েন্দা জোটগুলির মধ্যে একটি।

নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ভারত ও কানাডার মধ্যে সম্পর্কে তিক্ততা দেখা দিয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এই ইস্যুকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছেন। বিশেষ করে কানাডার শিখ ভোটব্যাঙ্ককে ধরে রাখতে তিনি ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার চেষ্টা করছেন। তবে এখনও পর্যন্ত নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডে ভারতের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ কানাডা সরকার দিতে পারেনি।

এই ঘটনার পর দুই দেশই একে অপরের কূটনীতিকদের বরখাস্ত করেছিল। ভারতের চাপে কানাডাকে দেশ থেকে ৪১ জন কূটনীতিক সরিয়ে নিতে হয়েছিল। এছাড়া, ভারত কানাডার নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রদান বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে বলে জানা গেছে।

২০২৩ সালের জুন মাসে কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের সারে এলাকায় একটি গুরুদ্বারের ভেতরে হরদীপ সিং নিজ্জরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাকে ২০ বারেরও বেশি গুলি করা হয়েছিল। হরদীপ কানাডায় খলিস্তানি আন্দোলনের একজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে ভারতে একাধিক মামলা ছিল। ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) হরদীপের বিরুদ্ধে হিন্দু পুরোহিত হত্যার ষড়যন্ত্রসহ বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করেছিল। এনআইএ তার মাথার দাম ১০ লক্ষ টাকা ঘোষণা করেছিল।

হরদীপ সিং নিজ্জর ‘খলিস্তান টাইগার ফোর্স’-এর প্রধান ছিলেন এবং গুরপতবন্ত সিং পান্নুনের ‘শিখস ফর জাস্টিস’ সংগঠনের আদর্শ প্রচারের দায়িত্বে ছিলেন। কানাডার ভ্যানকুভারে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে খলিস্তানি বিক্ষোভের পেছনেও তার ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই ঘটনা কানাডা ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তাপ তৈরি করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনো পোক্ত প্রমাণ ছাড়াই কানাডা ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে ‘ফাইভ আইজ’ জোটের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও জটিলতা তৈরি করেছে।