বেআইনি পেট্রোল পাম্পের রমরমে ব্যবসা, প্রশাসন বললো -“আমরা কিছুই জানতাম না”

বীরভূমের শান্তিনিকেতনে চলছে বেআইনি পেট্রোল পাম্পের রমরমা। একটি-দুটি নয়, জেলায় এমন পাম্পের সংখ্যা পৌঁছে গেছে ৪০-এ। কোনও আইনি কাগজপত্র ছাড়াই এই পাম্পগুলি চলছে, শুধু তাই নয়, প্লাস্টিকের ট্যাঙ্কে বিপজ্জনকভাবে পেট্রোল মজুত করে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি। জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
শান্তিনিকেতন থানার রূপপুর এলাকায় এমনই একটি বেআইনি পেট্রোল পাম্প গত পাঁচ মাস ধরে চলছে। কোনও সরকারি অনুমোদন নেই, কোনও কোম্পানির নাম নেই। শুধুমাত্র একটি মেশিন বসিয়ে পেট্রোল বিক্রি করা হচ্ছে। মেশিনের পিছনে প্লাই বোর্ড দিয়ে ঘেরা জায়গায় প্লাস্টিকের বড় ট্যাঙ্কে মজুত থাকছে অতি দাহ্য পেট্রোল। কোনও সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই পাম্পগুলি অনুব্রত মণ্ডলের প্রভাবশালী এলাকায় রমরমিয়ে চলছে।
গত বছর ৮ ডিসেম্বর সিউড়িতে পশ্চিমবঙ্গ পেট্রোলিয়াম ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের একটি বৈঠক হয়। সেখানে অভিযোগ ওঠে, বীরভূম জুড়ে প্রায় ৪০টি বেআইনি পেট্রোল পাম্প চলছে। অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জেলা শাসক বিধান রায়ের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছিল। সভাপতি প্রসেনজিৎ সেন এমনকি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বীরভূমে সব পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘট ডাকা হবে। কিন্তু তারপরেও প্রশাসনের কোনও তৎপরতা দেখা যায়নি।
সাংবাদিকরা যখন রূপপুরের ওই পাম্পে গিয়ে কর্মীদের প্রশ্ন করেন, তখন তড়িঘড়ি ঝাঁপ বন্ধ করে সকলে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে শান্তিনিকেতন থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশ পৌঁছে পাম্পটি বন্ধ করে দেয় এবং একজন কর্মীকে আটক করে। জানা গেছে, এই পাম্পের মেশিনগুলি মুম্বাই থেকে আনা হয়েছে, যা দেখতে অবিকল বৈধ পেট্রোল পাম্পের মেশিনের মতো। এর মাধ্যমে সহজেই গাড়ি ও বাইকের ট্যাঙ্কে পেট্রোল ভরা হচ্ছে।
রূপপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এলিনা খাতুন বলেন, “আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানতাম না। পঞ্চায়েত থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। বেআইনি হলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।” স্থানীয় বাসিন্দা নূরউদ্দিন শাহ জানান, “পাঁচ মাস ধরে এই পাম্প চলছে। আমিও এখান থেকে তেল ভরেছি। আজ পুলিশ এসে একজনকে ধরে নিয়ে গেল, পাম্পটিও বন্ধ করে দেওয়া হল।”
এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বেআইনি পাম্পগুলির কারণে শুধু আইন ভঙ্গই নয়, স্থানীয়দের জীবনও বিপন্ন হচ্ছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও, এই পাম্পগুলির পিছনে কারা জড়িত, তা এখনও স্পষ্ট নয়।