চলাফেরা করবে দু পায়েই! ‘মানুষের শেষ এখানেই’- মানুষের মতো দেখতে রোবটে ঘুম উড়ল সকলের

রজনীকান্তের ‘রোবট’ সিনেমার কথা মনে করিয়ে দেওয়ার মতো এক আশ্চর্য ঘটনা! পোল্যান্ড ও আমেরিকার স্টার্টআপ কোম্পানি ক্লোন রোবোটিক্স তাদের নতুন আবিষ্কার ‘প্রোটোক্লোন’ নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। এই রোবটটি দেখতে এবং চলাফেরায় এতটাই মানুষের মতো যে, এটি দেখে মানুষের ঘুম উড়ে গেছে। কৃত্রিম পেশী, হাড় এবং জয়েন্ট দিয়ে তৈরি এই রোবটের স্বচ্ছ ত্বকের মধ্য দিয়ে এর অভ্যন্তরীণ কাঠামো স্পষ্ট দেখা যায়।

এতদিন রোবটদের চলাচল অপ্রাকৃতিক ও যান্ত্রিক মনে হতো, কিন্তু প্রোটোক্লোনের নড়াচড়া এতটাই স্বাভাবিক যে এটিকে দেখে মনে হয় যেন কোনও জীবন্ত মানুষ। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিয়োতে এই রোবটকে ছাদ থেকে ঝুলিয়ে হাত-পা নাড়তে দেখানো হয়েছে। ভিডিয়োটি দেখলে মনে হবে যেন কোনও সায়েন্স-ফিকশন চলচ্চিত্রের দৃশ্য। একদিকে এর কার্যকারিতা অবাক করার মতো হলেও, অনেকের কাছে এটি কিছুটা ভয়ঙ্করও মনে হচ্ছে।

ক্লোন রোবোটিক্সের দাবি, প্রোটোক্লোন বিশ্বের প্রথম রোবট যা দুই পায়ে চলতে পারে এবং মানুষের শরীরের মতো কাজ করে। এতে ২০০ ডিগ্রির বেশি নড়াচড়ার ক্ষমতা, ১,০০০-এর বেশি কৃত্রিম পেশী (মায়োফাইবার) এবং ৫০০-এর বেশি সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির কারণে এর গতিবিধি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। কোম্পানি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছে, “প্রোটোক্লোন, বিশ্বের প্রথম বাইপেডাল, মাস্কুলোস্কেলেটাল অ্যান্ড্রয়েড।”

ভিডিয়োটি ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ এটি দেখেছেন। অনেকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “ছোটবেলা থেকে এমন কিছু দেখার অপেক্ষায় ছিলাম।” আরেকজন বলেছেন, “এটি রোবোটিক্সের ভবিষ্যৎ। আগামী দুই বছরে এই প্রযুক্তি হিউম্যানয়েড রোবটদের ছাড়িয়ে যেতে পারে।”

কেউ কেউ মজা করে বলেছেন, “আমরা ভালো সময় দেখে নিয়েছি, এবার রোবটের রাজত্ব আসবে।” আবার কেউ লিখেছেন, “এটি মানুষ নয়, তবে মনে হচ্ছে মানুষের শেষ এখান থেকেই শুরু।”

ক্লোন রোবোটিক্সের দাবি, এই ‘সিন্থেটিক হিউম্যান’ ভবিষ্যতে বাড়ি ও অফিসের মতো জটিল পরিবেশে স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম হবে। তবে এই অগ্রগতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে যেমন প্রযুক্তির এই সাফল্যকে সাধুবাদ জানানো হচ্ছে, অন্যদিকে অনেকে এটিকে মানবতার জন্য হুমকি মনে করছেন। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “সাধারণ মানুষ যখন ডাইস্টোপিয়ান ছবিগুলোকে সতর্কতা হিসেবে দেখে, তখন প্রযুক্তিবিদরা এগুলোকে অনুপ্রেরণা মনে করে।”

প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, প্রোটোক্লোনের মতো রোবট মানুষের জীবনকে সহজ করতে পারে, কিন্তু এর সঙ্গে নৈতিক ও নিরাপত্তার প্রশ্নও উঠছে। এই রোবটগুলো কি ভবিষ্যতে মানুষের বিরুদ্ধে যেতে পারে? এর অপব্যবহারের সম্ভাবনা কতটা? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও অজানা। তবে এই ভিডিয়ো শুধু প্রযুক্তির প্রদর্শনী নয়, এটি আমাদের সামনে বড় প্রশ্ন তুলেছে—আমরা কি সত্য আসলেই এমন একটি বিশ্বের জন্য প্রস্তুত?