‘হাইপারসনিক যুগে’ ঢুকে পড়ল ভারত, সফল স্ক্যামজেট ইঞ্জিন পরীক্ষা

মাত্র ১২০ সেকেন্ডের শক্তিশালী পরীক্ষার পর ভারত এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁল। প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও (DRDO) সফলভাবে হাইপারসনিক অস্ত্রবাহী স্ক্যামজেট কমবাস্টার ইঞ্জিনের পরীক্ষা সম্পন্ন করল, যা ভারতের সামরিক শক্তিকে আরও উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাবে। এই ইঞ্জিন ভারতকে স্বনির্ভর করে তুলবে হাইপারসনিক মিসাইল প্রযুক্তিতে, ফলে বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরতার প্রয়োজন নেই।
বেঙ্গালুরুর পরীক্ষাগারে জানুয়ারি মাসে প্রথম এই ইঞ্জিনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। একাধিক ধাপে পরীক্ষার পর অবশেষে ২ মিনিট ধরে সম্পূর্ণ লোডে ইঞ্জিনের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়। এই পরীক্ষার সঙ্গেই নিশ্চিত করা হয়, ভারত হাইপারসনিক এজ-এ প্রবেশ করল।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইপারসনিক অস্ত্রবাহী মিসাইল ছোড়ার জন্য এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি তৈরি করতে বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশ সক্ষম হয়েছে। স্ক্যামজেট ইঞ্জিন এমনভাবে তৈরি, যা মিসাইল লঞ্চের সময় ভয়ংকর তাপ উৎপন্ন হলেও তা সামলাতে পারে এবং টার্গেট হিট করার সময় দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যেতে পারে।
ডিআরডিও এই প্রকল্পে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে। প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানীদের মতে, এই ইঞ্জিনের সাফল্য ভারতের ভবিষ্যৎ হাইপারসনিক মিসাইল প্রকল্পকে ব্যাপকভাবে ত্বরান্বিত করবে। এক অবসরপ্রাপ্ত ডিআরডিও বিজ্ঞানী বলেন, “হাইপারসনিক প্রযুক্তি সহজ নয়। এটি অর্জন করতে বহু দেশের দশকেরও বেশি সময় লেগেছে। কিন্তু ভারত দ্রুত এই প্রযুক্তিতে এগিয়ে চলেছে।”
উল্লেখ্য, গত বছর অক্টোবরে ভারত অত্যন্ত গোপনে একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছিল, যা আমেরিকা, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো শক্তিশালী। সেই মিসাইল সমুদ্র, স্থল ও আকাশ থেকে নিক্ষেপ করা সম্ভব এবং প্রায় ৪৮০ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে পারে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, “যদি শক্তিশালী ইঞ্জিনের সঙ্গে হাইপারসনিক অস্ত্র যুক্ত করা যায়, তাহলে তার কার্যক্ষমতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়।” ভারতের লক্ষ্য বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী হাইপারসনিক মিসাইল তৈরি করা। ব্রহ্মস-২ মিসাইল তৈরির আগেই তার ইঞ্জিন প্রস্তুত রেখে কাজ এগিয়ে রাখছে ভারত, যা আগামী দিনে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশের অবস্থান আরও শক্ত করবে।
আমেরিকা, রাশিয়া ও চীনের পর এবার ভারতও হাইপারসনিক অস্ত্র তৈরিতে আত্মবিশ্বাসী। এই প্রযুক্তি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং ভবিষ্যতে সামরিক শক্তিতে ভারতকে আরও এগিয়ে দেবে।