মহাকুম্ভ বনাম জল্পেশ: শিবরাত্রিতে কোথায় বেশি ভিড়?- শুরু হলো জল্পনা

প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভের পুণ্যস্নান চলছে পুরোদমে। ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তীর্থযাত্রীদের একমাত্র লক্ষ্য যেন কুম্ভ মেলা! তবে উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী জল্পেশ মন্দিরও শিবরাত্রির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে জোরকদমে। কিন্তু মহাকুম্ভের আকর্ষণের কারণে জল্পেশে ভিড় কমবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ী ও মন্দির কর্তৃপক্ষ।
জল্পেশে শিবরাত্রির প্রস্তুতি
উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন শৈবতীর্থ জল্পেশ মন্দিরে ইতিমধ্যেই সাজসজ্জার কাজ চলছে। মন্দির সংলগ্ন জেলা পরিষদের মাঠে বসবে বার্ষিক মেলা, যা প্রায় দশ দিন ধরে চলবে। এই সময় রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে বিক্রেতারা আসেন, বসে ৫০০-এর বেশি দোকান। খাবার, পোশাক, অলঙ্কার থেকে শুরু করে নাগরদোলা—সবই থাকে এই মেলায়।
তবে এই বছর পরিস্থিতি একটু আলাদা। মহাকুম্ভের কারণে উত্তরবঙ্গের অনেক তীর্থযাত্রী কুম্ভে চলে গেছেন, ফলে জল্পেশে ভিড় কমবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা
স্থানীয় ব্যবসায়ী বাপ্পা পাল বলেন,
🗣️ ‘প্রতি বছর শিবরাত্রিতে প্রচুর মানুষ আসেন, কেনাকাটাও হয় ভালো। কিন্তু এবার কুম্ভে বেশি ভিড় থাকায় আমরা কিছুটা চিন্তায় আছি।’
নবদ্বীপ থেকে আসা খাবারের দোকানদার লালু পালও বলেন,
🗣️ ‘অন্যবারের মতোই মালপত্র এনেছি, কিন্তু ভিড় কম হলে সমস্যা হবে।’
বিহার থেকে আসা বিক্রেতা প্রমোদ গুপ্ত বলেন,
🗣️ ‘এই মেলা খুব বিখ্যাত, তাই আমরা প্রতিবছর আসি। কিন্তু এবার বিহার থেকেও অনেকে কুম্ভে গেছেন। ফলে এখানে ক্রেতা কমতে পারে।’
ভিড় কি সত্যিই কমবে?
শুধু বিহার নয়, অসম, সিকিম, ভুটান থেকেও প্রচুর ভক্ত জল্পেশে আসেন। যদিও অনেকে এবার কুম্ভে চলে গেছেন, তবু মন্দির কর্তৃপক্ষ আশাবাদী স্থানীয় ও অন্যান্য তীর্থযাত্রীদের আনাগোনা বজায় থাকবে।
মন্দির কমিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক গিরীন্দ্রনাথ দেব বলেন,
🗣️ ‘২৬ তারিখে মহাযোগ রয়েছে। সবাই কুম্ভে যেতে পারবেন না। ফলে তাঁরা জল্পেশেই আসবেন। যারা কুম্ভে গিয়েছেন, ফেরার পথে জল্পেশ ঘুরে যাবেন।’
নিরাপত্তায় কড়াকড়ি
যদিও ভিড় নিয়ে সংশয় রয়েছে, প্রশাসন নিরাপত্তায় কোনো খামতি রাখছে না।
✅ জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার খান্ডাবাহালে উমেশ গণপত মন্দির চত্বর পরিদর্শন করেছেন।
✅ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে মন্দির ও মেলার মাঠে।
✅ ময়নাগুড়ি থানার আইসি-ও পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করেছেন।
তীর্থযাত্রার টান— জল্পেশ না কুম্ভ?
গত বছর লক্ষাধিক ভক্ত জল্পেশে পুজো দিয়েছিলেন। এবারও সেই সংখ্যায় ঘাটতি হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তবে কুম্ভে যাওয়া ভক্তদের একাংশও ফেরার পথে জল্পেশে আসবেন বলে মন্দির কর্তৃপক্ষ আশাবাদী।
➡️ ২৬ ফেব্রুয়ারির মহাযোগের দিনই বোঝা যাবে, শিবরাত্রিতে ভক্তদের টান কুম্ভের দিকে বেশি, নাকি উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী জল্পেশের দিকে! ⛩️