“হাসিনা সরকার ফেলতে খরচ ২১ মিলিয়ন ডলার ?”- উঠে এলো চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

ভারতের নির্বাচনের জন্য মার্কিন অর্থব্যয়ের প্রসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক বাড়ছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনে আমেরিকার আর্থিক সহায়তার বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসার পর, বিষয়টি আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

ভারতে ভোটের জন্য ২১ মিলিয়ন ডলার কেন? ট্রাম্পের প্রশ্ন
১৬ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (DOGE) ঘোষণা করে যে, ভারতের ভোটপ্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য USAID-এর ২১ মিলিয়ন ডলারের তহবিল বন্ধ করা হয়েছে। এরপর থেকে এই বিষয়টি বারবার সামনে আনছেন ট্রাম্প।

তিনি বৃহস্পতিবার ফের বলেন,
👉 “ভারতের ভোটের জন্য ২১ মিলিয়ন ডলার আমরা কেন দেব? এটি তো ঘুষের প্রকল্প!”

বুধবার মায়ামিতে দেওয়া এক ভাষণেও তিনি একই মন্তব্য করেন, যা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও আলোড়ন ফেলেছে।

ভারতের বদলে বাংলাদেশে গিয়েছে মার্কিন অর্থ?
এই বিতর্কের মধ্যেই ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, USAID-এর ২১ মিলিয়ন ডলার আসলে ভারতের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ছিল।

📌 ২১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১৩.৪ মিলিয়ন ডলার ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের পেছনে ব্যয় করা হয়েছে।
📌 এই অর্থ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের আগেই ব্যবহার করা হয়।
📌 শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার সাত মাস পরও এই অর্থ “গণতন্ত্র শক্তিশালী করা” এবং “নির্বাচন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো” প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে।

কোন সংস্থা এই তহবিল পরিচালনা করেছে?
DOGE-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, USAID-এর অর্থ কনসোর্টিয়াম ফর ইলেকশনস অ্যান্ড পলিটিক্যাল প্রসেস স্ট্রেংথেনিং (CEPPS)-এর মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

👉 CEPPS ওয়াশিংটন ডিসি-ভিত্তিক সংস্থা, যারা গণতন্ত্র ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করে।
👉 ২০২২ সালের জুলাই মাসে USAID “Amar Vote Amar” নামে একটি প্রকল্প অনুমোদন করে, যা বাংলাদেশে চালু রয়েছে।
👉 জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত এই প্রকল্প চলতে পারে, এবং এখন পর্যন্ত ১৩.৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ?
২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার এক মাস পর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রো গভর্নেন্স রিসার্চ (MGR) প্রোগ্রামের পরিচালক আইনুল ইসলাম সামাজিক মাধ্যমে লেখেন—
🗨️ “এটা হঠাৎ আসা বসন্ত নয়!”
🗨️ “২২১টি কর্ম প্রকল্প ও ১৭০টি গণতান্ত্রিক অধিবেশন পরিচালনার মাধ্যমে ১০,২৬৪ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো হয়েছে।”

তিনি আরও স্বীকার করেন যে, USAID ও IFES-এর আর্থিক সহায়তা ছাড়া এটি সম্ভব হত না।

আওয়ামী লীগকে নিয়ে বিতর্কিত রিপোর্ট
📌 ২০২৪ সালের মার্চে প্রকাশিত NDI-IRI TAM রিপোর্টে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করা হয়।
📌 এতে দাবি করা হয়, নির্বাচনের ফল আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়ে যেতে নিয়ম ভাঙা হয়েছে এবং বিরোধী দলের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
📌 IRI ২০২৩ সালের আগস্টে পরিচালিত একটি জনমত সমীক্ষায় দেখায় যে, বেশিরভাগ বাংলাদেশি মনে করেন, দেশ “ভুল পথে” এগোচ্ছে।

DOGE-এর তালিকায় আরও বিতর্কিত অনুদান
USAID থেকে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (DI)-কে ২৯.৯ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছিল “বাংলাদেশের রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপ শক্তিশালী করতে”।
📌 ২০১৭ সালে অনুমোদিত এই অনুদান ২০২৫ সালের অক্টোবরে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
📌 তবে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক মুখপাত্র USAID-এর এই কর্মসূচি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।

ট্রাম্পের মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই নতুন তথ্য সামনে এসেছে যে, মার্কিন অর্থ ভারতে নয়, বরং বাংলাদেশে রাজনৈতিক কার্যক্রমে ব্যয় করা হয়েছে। এতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর মার্কিন হস্তক্ষেপের অভিযোগ আরও জোরালো হচ্ছে।

এই বিতর্ক আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ-আমেরিকা কূটনৈতিক সম্পর্কে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।