“BRICS জোট ভেঙে দিয়েছি…!”-বিশ্বে ডলারের দাপট বজার রাখতে প্রচেষ্টা ডোনাল্ড ট্রাম্পের

বিশ্ব অর্থনীতির মঞ্চে নতুন উত্তেজনা। একদিকে BRICS (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা-সহ সম্প্রসারিত সদস্য দেশ), অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর এই উত্তেজনার কেন্দ্রে এবার স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এবং আসন্ন নির্বাচনের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্প সম্প্রতি BRICS-এর কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, “BRICS ইজ ডেড!”

BRICS-এর বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অভিযোগ
ট্রাম্পের দাবি, BRICS দেশগুলি ডলারের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা করলেও তা কখনোই সফল হবে না। তিনি বলেন, “এই দেশগুলি নিজেদের নতুন মুদ্রা চালু করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি যখন প্রেসিডেন্ট ছিলাম, তখনই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলাম—যে দেশ এই পরিকল্পনায় অংশ নেবে, তাদের পণ্যে ১৫০ শতাংশ শুল্ক বসবে।” ট্রাম্পের মতে, এই ঘোষণার পরই BRICS দুর্বল হয়ে পড়ে।

‘ডলারের বিকল্প সম্ভব নয়’— ট্রাম্প
ট্রাম্পের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের আধিপত্য অটুট থাকবে এবং কোনো দেশ বা গোষ্ঠী এটি চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না। সম্প্রতি ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি পোস্ট করে বলেন, “BRICS দেশগুলোর উচিত নতুন মুদ্রার চিন্তা বাদ দেওয়া। যদি তারা এগিয়ে যায়, তাহলে আমেরিকা কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে।”

কেন BRICS নতুন মুদ্রা চাইছে?
BRICS দেশগুলি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের বিকল্প খোঁজার চেষ্টা করছে। এর মূল কারণ হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রভাব এবং নিষেধাজ্ঞার নীতি। বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলি মনে করে, আমেরিকা ডলারের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, BRICS দেশগুলি যদি নিজেদের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র মুদ্রা চালু করতে পারে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের নির্ভরশীলতা কমে যেতে পারে। এতে আমেরিকার অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগেই অভিযোগ তুলেছিলেন যে, আমেরিকা ডলারকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, “আমরা ডলার ত্যাগ করতে চাই না, কিন্তু আমেরিকার কঠোর নীতি আমাদের বিকল্প খুঁজতে বাধ্য করছে।”

BRICS-এর ভবিষ্যৎ কোন পথে?
BRICS বর্তমানে আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। নতুন সদস্য দেশগুলির মধ্যে রয়েছে মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। এছাড়া তুরস্ক, আজারবাইজান এবং মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলিও এই জোটে যোগ দিতে আগ্রহী।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর BRICS দেশগুলি কী পদক্ষেপ নেয়, তা এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব কি নতুন অর্থনৈতিক মেরুকরণের দিকে এগোচ্ছে, নাকি ডলারের আধিপত্য অটুট থাকবে—এটাই এখন বড় প্রশ্ন।