দেবী দুর্গার মতো সাজছে ভারতীয় বায়ুসেনা! F-35, Su-57E ও AMCA-র ত্রিশক্তির মেলবন্ধন

শ্রী বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের অমর মহালয়ার মহিষাসুরমর্দিনীতে যেমন দেবতারা একে একে অস্ত্র তুলে দিয়ে মা দুর্গাকে মহিষাসুর বধে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছিলেন, ঠিক তেমনই ভারতীয় বায়ুসেনা এবার আকাশে অজেয় হতে চলেছে। এবার দেবতাদের ভূমিকায় বিশ্বের দুই মহাশক্তি—আমেরিকা ও রাশিয়া। দুই দেশের কাছ থেকে আসছে দুটি অত্যাধুনিক ফিফ্থ জেনারেশন যুদ্ধবিমান—আমেরিকার F-35 এবং রাশিয়ার সুখোই Su-57E। এর সঙ্গে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি Advanced Medium Combat Aircraft বা ‘অ্যামকা’ (HAL AMCA) যোগ দিলে পাকিস্তান-বাংলাদেশ তো দূরের কথা, চিন পর্যন্ত ভারতের দিকে চোখ তুলে তাকাতে দু’বার ভাববে।

নব-নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক সাক্ষাতের ফল হিসেবে ভারতীয় বায়ুসেনার ভাঁড়ারে যোগ হতে চলেছে F-35। এই খবর এখন গোটা দেশের আলোচনার বিষয়। অন্যদিকে, রাশিয়ার বৃহৎ প্রতিরক্ষা সংস্থা Rosoboronexport নয়াদিল্লির কাছে তাদের ফিফ্থ জেনারেশন যুদ্ধবিমান সুখোই Su-57E বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে। এই দুই শক্তিশালী বিমানের সঙ্গে টক্কর দিতে ভারত নিজেও তৈরি করছে ‘অ্যামকা’। ভারতীয় বায়ু ও নৌসেনার তত্ত্বাবধানে তৈরি এই সিঙ্গল-সিট, ডাবল-ইঞ্জিন, সর্ব-আবহাওয়ায় উপযোগী মাল্টি-রোল ফিফ্থ জেনারেশন যুদ্ধবিমান আগামী দশকের মধ্যেই বায়ুসেনার শক্তি বাড়াতে প্রস্তুত হবে।

তিন শক্তিশালী যুদ্ধবিমানের বিশেষত্ব
এই তিন যুদ্ধবিমানের ক্ষমতা এমন যে বেজিং পর্যন্ত এদের নামে কাঁপতে বাধ্য। চলুন দেখে নিই এদের বিশেষত্ব:

১. মার্কিন যুদ্ধবিমান F-35
F-35-এর তিনটি ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে। F-35A সাধারণ রানওয়ে থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণে সক্ষম। F-35B স্বল্পদৈর্ঘ্যের রানওয়ে বা মাটি থেকে উল্লম্বভাবে উড্ডয়ন করতে পারে। আর F-35C মার্কিন নৌসেনার জন্য ভারী অস্ত্রসহ উড্ডয়নে বিশেষজ্ঞ। এর গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২০০০ কিলোমিটার, যা শব্দের চেয়েও দ্রুত। অত্যাধুনিক সেন্সর ও মারণাস্ত্রে সজ্জিত এই বিমান শত্রুপক্ষের এলাকায় এমনভাবে ঢুকে পড়ে যে কেউ টেরই পায় না—একেই বলে ‘স্টেলথ ক্যাপাবিলিটি’।

২. রুশ যুদ্ধবিমান সুখোই Su-57E
আকাশের যুদ্ধে সুখোই যেন পিতামহ ভীষ্মের সমতুল্য। রুশ সংস্থা সুখোই-এর এই টুইন-ইঞ্জিন ফিফ্থ জেনারেশন স্টেলথ মাল্টিফাইটার আকাশ ও ভূমি—দুই জায়গাতেই শত্রু ধ্বংসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ঘণ্টায় ২২০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে চলে এই বিমান, যা শব্দের দ্বিগুণেরও বেশি। বিধ্বংসী অস্ত্রে সজ্জিত হলেও এর গতি একচুল কমে না। তৎপরতা ও শক্তির জন্য সুখোই আকাশে সর্বদা অপ্রতিরোধ্য।

৩. হ্যাল অ্যামকা (HAL AMCA)
ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘অ্যামকা’ খরচের দিক থেকে সাশ্রয়ী, অথচ ফিফ্থ জেনারেশনের শক্তিশালী যুদ্ধবিমান। ২০৩৫-এর আগেই এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। Aeronautical Development Agency (ADA)-এর নকশায় তৈরি এই বিমান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সবচেয়ে গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। অ্যামকা মার্ক-১ হবে ফিফ্থ জেনারেশন, আর মার্ক-২ হবে সিক্সথ জেনারেশনের। এটি হাতে এলে ভারতীয় বায়ুসেনা আকাশে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে। ইতিমধ্যে এর প্রোটোটাইপও প্রকাশ্যে এসেছে।

ভারতের শক্তির নতুন মাত্রা
বর্তমানে বিশ্বে মাত্র তিনটি দেশ—আমেরিকা, রাশিয়া ও চিনের কাছে ফিফ্থ জেনারেশন যুদ্ধবিমান রয়েছে। চিনও ২০৩৫-এর আগে সিক্সথ জেনারেশন বিমান তৈরি করতে পারবে না। F-35, Su-57E ও AMCA-র ত্রিশক্তি ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে এলে আকাশে ভারতকে পরাস্ত করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই তিন বিমানের কাজ জোরকদমে এগিয়ে চলেছে, আর এর ফল ভারতীয় প্রতিরক্ষায় নতুন ইতিহাস রচবে।