সুষমা-শীলা-অতিশীর পর রেখা, ফের দিল্লিতে শপথ নিলেন আরও এক মহিলা মুখ্যমন্ত্রী

বিশাল জয়ের পর, অবশেষে দিল্লি পেল নতুন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার রামলীলা ময়দানে এক জাঁকজমকপূর্ণ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে দিল্লির নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শালিমার বাগের বিধায়ক রেখা গুপ্তা। দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভি কে সাক্সেনা তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যের একাধিক মুখ্যমন্ত্রী।

মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পেলেন?

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার পাশাপাশি মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেন। মন্ত্রিসভায় প্রবেশ ভার্মা, আশীষ সুদ, মনজিন্দর সিং সিরসা, রবীন্দ্র ইন্দ্ররাজ, কপিল মিশ্র এবং পঙ্কজ সিং মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রবেশ ভার্মা নয়াদিল্লি বিধানসভা আসন থেকে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে পরাজিত করেন। শপথগ্রহণের পর, নতুন মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

কে এই রেখা গুপ্তা?

প্রথমবারের বিধায়ক হলেও, রেখা গুপ্তা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি তিনবার এমসিডি কাউন্সিলর ছিলেন এবং বিজেপি মহিলা মোর্চার জাতীয় সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ (DUSU)-এর সভাপতি ছিলেন এবং ছাত্র সংগঠন এবিভিপির মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি ২০০৩-২০০৪ সালে বিজেপি যুব মোর্চার সম্পাদক এবং ২০০৪-২০০৬ সালে জাতীয় সম্পাদক ছিলেন। এরপর ২০০৭ ও ২০১২ সালে তিনি পিতমপুরা উত্তর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০১৫ ও ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শালিমার বাগ আসন থেকে পরাজিত হলেও ২০২২ সালে এমসিডি কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

২০২৩ সালের দিল্লির মেয়র নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, কিন্তু আম আদমি পার্টির শৈলী ওবেরয়ের কাছে পরাজিত হন। তবে এবার বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর, দিল্লির নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তিনি।

দিল্লির ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন দিকে যাবে?

বিজেপির জন্য এই জয় দিল্লির রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে আম আদমি পার্টির শাসনে থাকা রাজধানীতে এবার বিজেপি কীভাবে সরকার চালাবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল তুঙ্গে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রেখা গুপ্তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দিল্লির উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা এবং বিজেপির জনসমর্থন ধরে রাখা।